মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশকে সাথে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের তান্ডবে এলাকা ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা

পরিবর্তনডেক্স॥ মেহেন্দিগঞ্জের শ্রীপুরে পুলিশকে সাথে  নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি ঘরে হামলা-ভাংচুর চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের লোকজনকে শায়েস্তা করতে সেখানে অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম লাবু। তিনি জানান, বিএনপি যাতে নির্বাচনে ঘর থেকে বের হতে না পারে সে জন্য অকারনেই শ্রীপুরে পুলিশ ক্যাম্প দেয়া হয়েছে। পুলিশ আ,লীগের লোকজনকে সাথে নিয়ে বিএনপি নেতাদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে হয়রানী করছে। শনিবার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দীন শেখকে মারধর করে স্থানীয় ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা মাহমুদ হোসেন ও তার ক্যাডার বাহিনী। মারধর করে শাহাবুদ্দীন শেখকে পুলিশের ক্যাম্পে দিয়ে আসে। আলিমাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খালেক মৃধা জানান, মাহমুদ একাধিক মামলার এজাহারভূক্ত আসামী। কিন্তু পুলিশ তাকে সাথে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানী করছে। পুলিশী হয়রানীর কারনে সেখানে মিম (৩) এক শিশুর পানিতে ডুবে করুন মৃত্যু হয়েছে। মিমের বাবা মাসুদ মোল্লা অভিযোগ করেন বৃহস্পতিবার মাহমুদ ও তার লোকজন পুলিশ নিয়ে তার বাড়ীতে অভিযানে আসে। খবর পেয়ে আমরা সবাই পালিয়ে যাবার চেষ্টা করি। এ সময় মিম পানিতে পড়ে গিয়ে মারা যায়। সন্তানেন দাফনের সময়ও আমরা এলাকায় থাকতে পারিনি। মৃত মিমের দাদা জীবন মোল্লা জানান, পুলিশ শুক্রবার বাড়ীতে এসে তার ছোট ছেলের কাছ থেকে জোর করে লেখিয়ে নিয়ে গেছে যে মিম পুলিশের কারনে পানিতে ডুবে মারা যায়নি। শনিবার সকালে পূর্ব শ্রীপুরে বিএনপি সমর্থক কৃষক আলমঙ্গীরের আখ কেটে নিয়ে গেছে মাহমুদ বাহিনীর লোকজন। পুলিশের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খালেক মৃধা। ওই এলাকার বিএনপি নেতাদের পরিবার ইতিমধ্যে গ্রাম ছাড়া হয়ে বরিশালে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মান্নান শেখ জানান, বুধবার রাতে গিয়ে পুলিশ আমার বাসায় তল্লাশী চালায়। আমাকে না পেয়ে তারা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গালাগাল করেন। অথচ আমার নামে থানায় কোন মামলা নেই। আমি এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাতেম ঘরামী অভিযোগ করেন, বুধবার শ্রীপুর বাজারে এসে পুলিশ অকারনে তাকে ধাওয়া করে। আমার নামে থানায় মামলাতো দূরের কথা একটি সাধারন ডায়েরীও নেই।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দে জানান, শ্রীপুর পাতারহাট বন্দর থেকে অনেক দূরে। কয়েক দিন পূর্বে সেখানে আ,লীগ বিএনপির মধ্যে মারামারি হয়েছে। যে কোন সময় অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেতে পারে। তাই আমরা বুধবার ১১ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে পুলিশ ক্যাম্প করেছি আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য। পুলিশের কারনে শিশু পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। ঘটনার সত্যতা যাছাই করকে পুলিশ সুপার শ্রীপুরে যাবেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ক্যাম্প করা হয়নি। বেশ কয়েক দিন ধরে সেখানে জমি বিরোধ দিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারন কোন রকম অঘটন ঘটলে সে দায়ভারতো কেউ নেবেনা পুলিশকেই নিতে হবে। উল্লেখ্য আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।