মেয়াদ শেষেও বানিজ্য মেলায় চলছে অশ্লীল নৃত্য কাশিপুরের আনন্দ মেলায় এর সাথে জুয়াও অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর দুই প্রান্তে বানিজ্য ও আনন্দ মেলার নামে চলছে রাত ভর জুয়া আর অশ্লীল নৃত্য। সেই সাথে র‌্যাফেল ড্র’র নামে চুষে নিচ্ছে সাধারন মানুষের লাখ লাখ টাকা। প্রকাশ্যে এমন জুয়া কার্যক্রম চলতে থাকলেও রহস্যজনক কারনে নিরবতা পালন করছে প্রশাসন। অবশ্য গত বৃহস্পতিবার বরিশাল আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার র‌্যাফেল ড্র’, হাউজি এবং জুয়া বন্ধ করে দিলেও চলছে কাশিপুর দিঘির পাড়ের যাত্রা, জুয়া আর অশ্লীল নৃত্য।
সূত্রমতে, গত ১৫ মার্চ নগরীর বান্দ রোডে মেরিন ওয়ার্কশপ মাঠে শুরু হয় মাস ব্যাপী আন্তর্জাতীক বানিজ্য মেলা। এখানে নামে মাত্র বানিজ্য মেলার অনুমোদন আনা হলেও মূলত চালানো হয় হাউজি, জুয়া, র‌্যাফেল ‘ড্র’, ভ্যারাইটি শো, ম্যাজিক শো, সার্কাস ও যাত্রাপালা। মেলার পেছন দিকে আয়োজিত সার্কাস বাদে প্রতিটি বিনোদন মূলক আয়োজনেই চলে অশ্লীলতা। ম্যাজিক শো, ভারাইটি শোতে বিকাল থেকে মাঝ রাত পর্যন্ত হয় ষোড়শি বয়সি নর্তকিদের অশ্লীল এবং উলঙ্গ দেহ প্রদর্শন। এ দুটি শো শেষ হলে শুরু হয় যাত্রার পালায় নর্তকিদের অশ্লীল নৃত্যের তালে তালে উলঙ্গ নর্তকীদের দেহ প্রদর্শন। এসব করে প্রতিদিন সাধারন মানুষের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা।
তবে বানিজ্য মেলার মাস খানেন আগে শুরু হয় নগরীর কাউনিয়া কাউজিং এলাকায় আনন্দ মেলা। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের পরিচালনায় শুরু হওয়া আনন্দ মেলাতেও চলে হাউজি, যাত্রা, জুয়া আর অশ্লীলতা। আনন্দ মেলার মেয়াদ শেষ হওয়ার কদিন পরে পুলিশ গিয়ে সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিলেও সম্প্রতি হাউজিং মাঠেও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুনরায় শুরু হয় আনন্দ মেলার নামে রাতভর অশ্লীলতা ও জুয়া। তবে অনুমোদন বা প্রশাসনের সাথে বুনিবনা না হওয়ায় বন্ধ করে দেয়া হয় এখানকার আনন্দ মেলা।
কিন্তু লাগাম টেনে ধরতে পারছে না নগরীর কাশিপুর চৌমাথা বাজার সংলগ্ন দিঘির পাড়ের যাত্রার নামে অশ্লীলতা আর জুয়া। বানিজ্য মেলার মত করেই এখানে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাতভর যাত্রা-জুয়ার আর র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত করছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন আব্দুল হাকিম ও কবির। যার ফলে ঐ এলাকা সহ আশপাশের এলাকায় বেড়েছে অপরাধ প্রবনতা। তার পরেও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলায় এখানকার কার্যক্রম পুলিশ বন্ধ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নিরাবতার সুযোগে কাশিপুর দিঘির পাড়ের আনন্দ মেলার জোনাকি র‌্যাফেল ড্র’ কর্তৃপক্ষ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২০ টাকা হারে টিকেট বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর আয়োজনে ১৫ মার্চ শুরু হওয়া বানিজ্য মেলার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কিন্তু সেখানে এখনো চলছে কার্যক্রম। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বানিজ্য মেলা, যাত্রা ও ভ্যারাটি শো চালাচ্ছে বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা আবুয়াল হোসেন অরুন সহ যুব ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গতকালও বানিজ্য মেলায় যাত্রা ও ভ্যারাটি শো অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তবে এর পূর্বে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে টিভিতে ড্র প্রচার করা বানিজ্য মেলার দৈনিক সবুজ বাংলা র‌্যাফেল ‘ড্র’র নামে রিক্সা চালক, দিনমজুর, নরসুন্দর, গৃহপরিচারিকা থেকে শুরু করে সাধারন মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চুষে নেয়া র‌্যাফেল ড্র’র কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এর পূর্বে বুধবার রাতে বন্ধ করে দেয় হাউজি ও জুয়া। তবে এখনো থেমে নেই বাজিন্য মেলার মাঠের যাত্রার আর ভ্যারাটি শোর নামে অশ্লীলতা আর নর্তকিদের উলঙ্গ দেহ প্রদর্শন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে, চেম্বার কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে কয়েকটি দিন সময় চেয়েছে। তারা মেলার সময় বাড়াবার জন্য চেষ্টা করছেন। না পারলে মেলার ষ্টল ভেঙ্গে দেয়া হবে। তবে মেলায় বেচা-বিক্রি ছাড়া যাত্রা, জুয়া সহ সকল বিনোদন মূলক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের মুখপাত্র।