মেডিনোভা সহ ৬ প্রতিষ্ঠানে জরিমানা নগরীর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হাতুড়ে টেকনিশিয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চলছে অধক্ষ এবং হাতুড়ে টেকনিশিয়ানা দিয়ে রোগীর সেবার কার্যক্রম। এর ফলে পরীক্ষা নিরীক্ষায় ভুল প্রতিবেদনের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছে সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রবিবার নগরীর প্রাণ কেন্দ্রের নামী প্রতিষ্ঠান মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস সহ এরকম ৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অর্থদন্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বেলা ১১টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসেরন নির্বাহী হাকিম সুখময় সরকার’র নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতে ঐ ছয়টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পক্ষের কাছ থেকে ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বেশ কিছু স্বনামধন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। যেখানে নিয়মের থেকে অনিয়ম বেশি হয়ে আসছে। রোগীদের সেবার নামে তাদের সাথে করা হচ্ছে প্রতারণা। পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হলেও তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করছে নামে মাত্র টেকটিশিয়ান দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র আরো জানায়, বরিশালের যেসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, তার মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সনদ ধারী টেকনিশিয়ান নেই। এরা দেখতে দেখতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পদ্ধতি জেনেছে। আর অর্থ দন্ডি থেকে রেহাই পেতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকরা ঐসব হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়েই রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করাচ্ছে। এতে রোগীদের জীবনের ঝুঁকি থাকলেও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে টেকনিশিয়ান এবং মালিক পক্ষ।
এদিকে এসব অভিযোগে গতকাল রবিবার নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড এবং তৎসংলগ্ন প্যারারা রোড, ও গৃজামহল্লার বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় প্রায় প্রতিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই অভিযোগের আলামত খুঁজে পান ভ্রাম্যমান আদালত। যার ফলে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড প্রদানের পাশাপাশি করা হয়েছে সতর্ক।
ভ্রাম্যমান আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুজ্জামান জানান, যেসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস। দেশের অন্যতম নামী এই ডায়াগণস্টিক সেন্টারের বরিশাল শাখার এক্স-রে টেকনিশিয়ান আমানুল্লাহ’র সংশ্লিষ্ট কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। রোগীদের ইসিজি পরীক্ষা করান হাফিজা খাতুন। ইসিজি পরীক্ষা করার মত রেজিষ্টার্ড কোন প্রতিষ্ঠানে কোন দিন প্রশিক্ষণ নেননি তিনি। রক্ত সংগ্রাহক গিয়াস ও আজাদেরও সংশ্লিষ্ট কাজের কোন সনদ মেলেনি। এমনকি মেডিনোভার বরিশাল শাখায় পরিবেশ ছাড়পত্রের মেয়াদোত্তীর্ন এবং মূল্য তালিকাও ছিল অসম্পন্ন। মেডিনোভার মত খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের এমন ভয়ংকর চিত্র দেখে হাতুড়ে লোকজন দিয়ে এক্স-রে, ইসিজি ও রক্ত সংগ্রহের মত গুরুতর কাজগুলো কেন করানো হচ্ছে, এমন প্রশ্ন করা হলে ভ্রাম্যমান আদালতের সামনে নিরুত্তর থাকেন বরিশাল মেডিনোভার ব্যবস্থাপক মোঃ সানোয়ার হোসেন।
মেডিনোভা ছাড়াও সনদ ধারী টেকনিশিয়ান, সেবার মান খারাপ এবং নোংরা পরিবেশের জন্য গ্রীন ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে দুটি ধারায় ৬ হাজার, হেল্থ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৫ হাজার, স্কয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৫ হাজার সহ ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এমনকি পরবর্তীতে নিয়ম মেনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা এবং রোগীর সেবা প্রদানের বিষয়ে হুশিয়ার করা হয়েছে।
এসময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন’র প্রতিনিধি ডাক্তার মাহামুদ হাসান এবং কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস সহ বাকি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ন্যায় বরিশালের হাতেগোনা কয়েকটি বাদে প্রায় প্রতিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই ভাবে হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়ে রোগীর সেবা করা হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের টেকনিশিয়ানদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে তাদের সনদপত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে সেটাকে সাইন বোর্ড হিসেবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। প্রশাসন বা ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালালে ভাড়া করা সনদপত্রের ফটোকপি তাদের সামনে নিয়ে আসে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পক্ষ। তবে তাদের সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।