মেডিনোভার ভুলে মৃত্যু পথে নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানার পরেও একই পথে নগরীর প্রতিষ্ঠিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস। এবার তাদের দেয়া পরীক্ষা নিরীক্ষার ভুল প্রতিবেদনে মৃত্যু পথযাত্রী হয়েছে এক রোগী। সদর উপজেলার কাগাশুরা এলাকার শাহীন মোল্লার স্ত্রী শিউলী বেগম (৩০) নামে ঐ রোগী বর্তমানে নিজ বাড়িতে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, শিউলি বেগম এর জরায়ু থেকে রক্ত ক্ষরণ হয়। এ অবস্থায় শিউলিকে সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি করা হয়। এসময় গাইনী বিভাগের রেজিস্টার ডা. শাহারীয়ার তারেক রোগীকে নগরীর সদর রোডের প্রতিষ্ঠিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস থেকে জরুরী আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরা ২৯ মার্চ হাসপাতালটির সামনেই পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। এসময় রিপোর্টে ঐ গৃহবধু গর্ভবতী নয় বলে আলামত পান।
এদিকে এ রিপোর্টটি পাওয়ার পরেও সদর হাসপাতারের গাইনী বিভাগের রেজিষ্টার ডা. শাহারীয়ার তারেক সদর রোডের মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস থেকে পূনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য বলেন।
ঐ চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী মেডিনোভায় আল্ট্রাসনোলজিষ্ট ডা. রিক্তা কুন্ডকে দিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করালে পুরো রিপোর্টই পরিবর্তন হয়ে যায়। মেডিনোভার রিপোর্টে বলা হয় শিউলী বেগম অন্তঃসত্বা হয়েছে। পাশাপাশি বাচ্চা জরায়ুতে না এসে জরায়ুর নালীতে এসেছে। আর এজন্য গৃহবধুর জরায়ু থেকে রক্ত ক্ষরন হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় পরীক্ষার রিপোর্টে।
এ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সদর হাসপাতালের পার্সেন্টেজ লোভি চিকিৎসক ডা. শাহারীয়ার তারেক রোগীকে বাচাতে হলে দ্রুত অপারেশন করার জন্য বলেন।
এদিকে দুই প্রতিষ্ঠানে আল্ট্রাসনোগ্রামে দুই রিপোর্ট আসায় অনেকটা সন্দিহার সৃষ্টি হয় পরিবারের মধ্যে। পরবর্তীতে তারা সন্ধিহা এড়াতে রোগীকে নগরীর বেলভিউ এবং শুভ ডায়গনস্টিক সেন্টারে পূনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। কিন্তু এ দুটি প্রতিষ্ঠানে করানো আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টের কোনটিতেই রোগীর গর্ভে বাচ্চা ধারনের বিষয়টি পাওয়া যায়নি। বেলভিউ’র গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা বেগম জানায় শিউলির জরায়ুতে টিউমার বা অন্য কোন কারনে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে।
তবে রিপোর্ট ভুল হওয়ার বিষয়টি এখনো মেনে নিতে পারেনি প্রতিষ্ঠিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসের বহুল পরিচিত সনোলজিষ্ট ডা. রিক্তা কুন্ড। তার সাথে রোগী শিউলীর পারিবারিক চিকিৎসক ডা. সুশিল কুমার যোগাযোগ করলে ডাক্তার রিক্তা কুন্ড তাকে জানান, ঐ রোগীর দ্বিতীয়বার আল্ট্রাসনোগ্রাম করা যেতে পারে। তবে তা টাকা দিলে।
উল্লেখ, কিছুদিন পূর্বে দেশের প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বরিশাল নগরীর মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় নামকরা এই প্রতিষ্ঠানের সর্বত্বই ভুয়ামির প্রমাণ পান ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় অবশ্য বেলভিউ কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড প্রদানের পাশাপাশি সতর্ক করা হয়। কিন্তু এর কয়েক মাস যেতে না যেতে মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসে গৃহবধুর ভুয়া আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে সাধারন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।