মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অবশেষে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর গঠন করা হলো বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি। কলেজের ৪০ তম ব্যাচের ছাত্র মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া সভাপতি ও ৪২ তম ব্যাচের মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে সাধারন সম্পাদক করে দুই সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৯ এপ্রিল কমিটি অনুমোদন দেয়া হলেও গতকাল শুক্রবার মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক অসীম দেওয়ান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি ঘোষনা করেন। পাশাপাশি দুই সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসরা তালিকা মহানগর কমিটির নিকট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানাগেছে, ১৯৯৫ সালে সর্বশেষ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তখনকার সময় কলেজের সাবেক ছাত্র ডা. আবু জাফরকে সভাপতি ও উপজাতী ছাত্র ডা. বিভুতি ভুষনকে সাধারন সম্পাদক ছিলেন। তবে ঐ কমিটি পরবর্তীতে দীর্ঘ বছরেও পূর্নাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি। ঐ কমিটি গঠনের পর প্রায় ৭ বছর ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করেন দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।
এদিকে ওয়ান এলিভেনের পর ২০০৮ সনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেন। এর ৬ মাসের মাথায় স্থানীয় রাজনীতির পরিবর্তন ঘটে। সেই সাথে ডা. জাফর ও ডা. বিভুতিকে ক্যাম্পাস ছাড়া করে ছাত্রলীগের অপর গ্রুপ। পর্যায়ক্রমে এই দুই নেতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে বরিশাল থেকে চলে যান। এর পরে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের নতুন করে কোন কমিটি গঠন হয়নি।
তবে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের একপক্ষ জানায়, ২০১১ সনের শেষের দিকে মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র টাঙ্গাইলের ডা. হারুন অর রশিদ রাসেলকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক মেয়র ও প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরণ এই কমিটির অনুমোদন দিলেও মহানগর ছাত্রলীগ এই কমিটির অনুমোদন দেয়নি।
তবে ঐ আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া রাফিকেই ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে সভাপতি মনোনিত করেছেন মহানগর ছাত্রলীগের তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। নতুন কমিটিতে যাদের পদ ও পদবী দেয়া হয়েছে তারা সবাই মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের দুঃসময়ে অস্তিত্ব ধরে রাখেন। ছাত্রলীগের হয়ে সকল প্রকার কার্যক্রম পরিচালনার নেতৃত্বেই ছিলেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া রাফি। তাকে সভাপতি এবং মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে সাধারন সম্পাদক করায় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিবাদমান একটি গ্রুপ ক্ষুব্ধ হলেও সংখ্যা গরিষ্টতায় এগিয়ে থাকা ছাত্রলীগ ও সাধারন ছাত্রদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসতে দেখা গেছে।