মেডিকেলের ভর্তিপরীক্ষা বাতিলের দাবীতে ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিদেক॥ ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত ভর্তিপরীক্ষা বাতিলের দাবীতে ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী এবং ছাত্রমৈত্রী পৃথক পৃথকভাবে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও সদর রোডে এই কর্মসূচী পালন করেন। এসময় সদর রোডে ছাত্রমৈত্রীর মানববন্ধন কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা প্রদান করে।
এর মধ্যে বুধবার সকাল ৮ থেকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে ভর্তিইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। পুলিশের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচিতে একাত্ততা প্রকাশ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। তারা মেডিকেল কলেজের ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনরত ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সাথে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। একই সাথে মেডিকেল কলেজের কয়েকটি ব্যাচের সাধারণ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরাও তাদের ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আন্দোলনে অংশ নেয়। পরবর্তীতে তারা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় সংলগ্ন গেটটি সহ আশপাশের প্রতিটি গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সেই সাথে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত ভর্তিপরীক্ষা এবং ভর্তি কার্যক্রম অবিলম্বে বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে ভর্তি পরীক্ষার দাবী জানান তারা। পাশাপাশি যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
এদিকে মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহা জানান, গতকাল আন্দোলনরত ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সাথে মেডিকেল কলেজের কয়েকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। তবে যাদের আইটেম পরীক্ষা ছিলো তারা সেই পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিয়েছে। তাছাড়া বেলা ১১ টার দিকে কলেজের গেটে লাগানো তালাগুলো কেটে ফেলে তাদের কর্মচারীরা।
অপরদিকে বেলা ১২ টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মেডিকেল কলেজ সহ সকল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রমৈত্রী। বরিশাল মহানগরের সভাপতি শামীম শাহরুক তমাল’র সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন মুনতাহা নূর, আল মামুন রাব্বি, স¤্রাট মজুমদার, মিন্টু দে, নাহিদ হাসান প্রমুখ।
তবে মানববন্ধনের শুরুতে অনুমতি না নিয়ে কর্মসূচির আয়োজন করায় পুলিশ ছাত্রমৈত্রীকে মানববন্ধনে বাধা দেয়। এসময় পুলিশের সাথে নেতা-কর্মীদের বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ছাত্রমৈত্রী পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন ।