মেঘনা বক্ষে দুটি নৌযানের সংঘর্ষ

রাডার ও জিপিএস সহ অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সমৃদ্ধ এমভি মধুমতি ক্ষতিগ্রস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মেঘনা বক্ষে মাঝারি কুয়াশায় প্রায় এক হাজার যাত্রী বোঝাই বিআইডব্লিউটিসি’র যাত্রীবাহী স্টিমার ‘এমভি মধুমতি’র ওপর আছড়ে পড়ল জ্বালানিবাহী নৌযান ‘এমটি আমেনা’। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঐ দূর্ঘটনায় মধুমতির সামনের দিকের ফ্যন্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এর খোলেও পানি প্রবেশ করে। মধ্য রাতে বিকট শব্দের ঐ সংঘর্ষের ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতংক ছড়িয়ে পরে। তবে নৌযানটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেও এর সামনে একটি খোলে পানি প্রবেশ করে এ্যাংকর সিস্টেম বিকল হয়ে গেছে। নৌযানটির একটি পাম্প ও এ্যাংকর- এর হাইড্রোলিক সিস্টেমটিই অকার্যকর হয়ে গেছে।
তবে দূর্ঘটনার পরে কাপ্তেন ও ইঞ্জিন কর্মকর্তা দায়িত্ব নিয়ে পাম্প করে খোল থেকে পানি বের করে নৌযানটিকে নিয়ে গতকাল সকালে বরিশালে পৌছে যাত্রী ও পণ্য খালাস করেন। অবশিষ্ট যাত্রী ও পণ্য নিয়ে নৌযনটি ঝালকাঠী ও পিরোজপুর হয়ে বিকলে সাড়ে ৪টার দিকে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের শেষ গন্তব্যে পৌছেছে বলে জানা গেছে। আজ সকালে ফিরতি ট্রিপে যাত্রী নিয়ে মধুমতি-বরিশালÑচাঁদপুর ও ঢাকা উদ্যেশে যাত্রা করবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে।
তবে ইকোÑসাউন্ডপার, জিপিএস ও রাডার-এর মত অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জামাদী থাকার পরেও মাঝারি কুয়াশায় বিপরীত দিক থেকে আসা বড় মাপের একটি অয়েল ট্যংকারকে শনাক্ত করে এমভি মধুমতি কেন নিরাপদ দূরত্বে মেঘনা বক্ষের মত বিশাল নৌপথ অতিক্রম করতে পারল না, সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বিআইডব্লিউটসি’র জিএম মেরিন-এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, ‘দূর্ঘটনার তদন্ত নিয়ে আমরা ভাবছি না, আগে নৌযানটি সচল করে নিরাপদে যাত্রী পরিবহনে দেয়া জরুরী। তবে সংস্থা পরিচালক-কারিগরি জানান, সব কিছুই আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে ‘এমটি আমেনা’ নামের অয়েল ট্যাংকারটির স্বত্ত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ‘হাইস্পীড নেভিগেশন’এর দায়িত্বশীল মহল মধুমতির ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামত করে দিতে সম্মত হয়েছে বলেও তিনি জানান। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ দূর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে কোন পক্ষই নৌ পুলিশ থানা বা মেরিন আদালতে মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানা গেছে।