মেঘনা নদীতে সুরভি-৯ লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা তছনছ, জেলে নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল-ঢাকা রুটের চলাচলকারী লঞ্চ এমভি সুরভী-৯ এর ধাক্কায় বেশ কয়েকটি জেলে নৌকা ভেঙ্গে চুড়ে গেছে। এ ঘটনায় এক জন জেলেও নিখোজ রয়েছে। একই সাথে পরিবারের জন্য আয় উর্পাজনকারী জেলের জীবন কেড়ে নেয়ারও সম্ভাবনার মধ্যে ফেলেছে। মেঘনা নদীতে বেপরোয়া গতির সুরভী-৯ লঞ্চ মাছ শিকারত নৌকার উপর উঠিয়ে দেয়। রোববার গভীর রাতে ওই ঘটনায় লঞ্চের নিচে পড়ে ৬ জেলেদের আয়ের সম্বল নৌকাটি ভেঙ্গে তছনছ হয়ে ডুবে গেছে। রক্ষা করা যায়নি জেলেদের জালও। এছাড়াও নিখোঁজ এক জেলের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ওই জেলে হলো- আক্তার মাঝি। সে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়নের আশা গ্রামের আলী মাঝির ছেলে।
বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর মধ্যে এমভি সুরভি-৯ লঞ্চ আকৃতিতে বড় হওয়ায় মাঝে মধ্যেই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। সুরভী লঞ্চের গ্রীজার, মাষ্টার ও সুকানীর বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে অন্যান্য লঞ্চগুলো অভিযোগ জানিয়ে আসছিল। অন্যান্য লঞ্চের অভিযোগ তাদের চলাচলের গতি অত্যান্ত বেপরোয়া। বিশেষ করে জেলেদের নৌকায় প্রায়ই তারা আঘাত করে থাকে। জেলেরা অভিযোগ করেছে, বিশাল সাইজের লঞ্চটি দ্রুতগতিতে চলাচল করে। কোন সর্তক সংকেত না দিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় সরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। প্রায়ই ওই লঞ্চের নিচে পড়ে নৌকা হারাচ্ছে দরিদ্র জেলেরা। বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে। মারা যাওয়ার নজিরও রয়েছে বলে জেলেরা অভিযোগ করেছে।
তারা জানায়, রোববার রাত ২টার দিকে তেমন দ্রুতগতিতে মেঘনা নদীর কালীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকা অতিক্রমকালে সরে আসার সুযোগ পায়নি নিখোঁজ আক্তারসহ ৫ জেলের নৌকা। লঞ্চের নিচে পড়ার মুহুর্তে লাফিয়ে ৫ জেলে নদীতে পড়ে। পরে তাদের অন্য জেলেরা উদ্ধার করেছে বলে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি উজ্জল কুমার দে জানিয়েছেন। আক্তার মাঝিকে অন্য জেলেরা উদ্ধার করতে পারেনি। তার সন্ধানে পরিবার নদীতে তল্লাশী করছে। মৌখিকভাবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। নিখোঁজ জেলের সন্ধান পাওয়ার পর পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ওসি জানিয়েছেন।
তবে নিখোঁজ জেলের পরিবার জানিয়েছেন এই ঘটনায় সুরভী লঞ্চের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।