মেঘনায় মনপুরার পুলিশ ও মৎস্য অফিসারের গণ চাঁদাবাজি

তজুমদ্দিন প্রতিবেদক ॥ মেঘনা নদীর তজুমদ্দিন উপজেলার অংশে মনপুরার ওসি ও মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরিহ জেলেদের আটক করে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে দিনব্যাপি তারা মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ জাল উদ্ধারে বিশেষ সমন্বিত অভিযানের নামে অন্তত ২৫ জেলেকে আটক করে নগদ টাকা, জাল, মাছ ও বিকাশের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে। সাধারণ জেলেরা ঘাটে ফিরে তজুমদ্দিনের সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন।
উপজেলার বিভিন্ন মাছঘাটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ওসি শাহিন খাঁন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার তজুমদ্দিনের নিরিহ জেলেরা বৈধভাবে নদীতে মাছ ধরলেও তাদের জাল মাছ নগদ টাকা লুটপাট করে ২৫-২৬ জেলেকে আটক করে মোবাইলে যোগাযোগ করতে বলে। পরে জেলেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে মনপুরা থানার ওসি ও মৎস্য কর্মকর্তার মোবাইলে যোগাযোগ করলে তারা জেলেদের ছারিয়ে নিতে ১০ হাজার টাকা করে দাবী করে। দাবীকৃত টাকা ০১৭৩৫৫৪২৭৫৩, ০১৮৫২১৬৪৭৯৫ ও ০১৭৬৬২৯২১৭৪ এই নাম্বার গুলোতে বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলে। প্রথম নম্বরটি মনপুরা মৎস্য অফিসারের স্ত্রী’র নম্বর বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপর দু’টি নম্বর সন্ধ্যা ৫ টা ৪২ মিনিটে ফোন নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফোন করলে বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবুল বাশার বিকাশে টাকা আদায় করার কথা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন। তিনি দাবী করেন, আমরা জেলেদের অবৈধ জাল থাকায় কিছু জরিমানা করেছি। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আমাকে এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছেন। তাই কিছু জেলেদের কাছ থেকে বিকাশে টাকা নেয়া হয়েছে।
তজুমদ্দিন স্লুইজ ঘাটের জেলে মিলন মাঝি অভিযোগ করেন, মনপুরা থানার ওসি ও মৎস্য অফিসার দুপুর ২ টার দিকে তজুমদ্দিনের বাসন ভাঙ্গার চরের কাছে এসে কোন অপরাধ ছাড়াই নৌকা থেকে ৮ লিটার ডিজেল, ১৫/১৬ হালি ইলিশ মাছসহ তাকে আটক করে। ২ ঘন্টা পরে তার সাথে থাকা তিন হাজার ছয়শত টাকা রেখে তাকে অপর একটি জেলে ট্রলারে তুলে দেয়। একই ঘাটের হান্নান মাঝি জানান, নদীতে মাছ ধরার সময় বৈধ জাল হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ নৌকা থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে ৭ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করার পর তাকে ছেড়ে দেয়। এছাড়াও সিরাজ মাঝি জানান, পাতার চরের কাছ থেকে বিকাল ৩ টায় দিকে তাকে আটক করে। পরে বিকাশে ১০ হাজার টাকা দিলে তাকেসহ পুলিশের বোটে আগে থেকে আটক বাছেদের কাছ থেকে ৫ হাজার ও সেকান্তরের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা বিকাশে আদায় করে সকলকে ছেড়ে দেয়। এদিকে তজুমদ্দিন ঘাটের ব্যবসায়ী আবুল হাসেম অভিযোগ করেন, বিকাশে টাকা পরিশোধ না করায় তার আড়তের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বাবুল ওরফে লালন (৫০) ও জসিম (৪৮), তজুমদ্দিনের ফয়েজ উদ্দিন (৩৫) কে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন খাঁন জানান, বিকাশে টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এখানে কোন চাঁদাবাজি হয়নি। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। এই দায়-দায়িত্ব মৎস্য অফিসারের। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অনুমতি দেয় সম্পর্কে জানতে চাইলে মনপুরা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ এরশাদ হোসেন খাঁন জানান, অন্য কেউ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া আমি কাউকে এমন কোন অনুমতিও দেইনি। আমি বর্তমানে অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি।