মেঘনার মেহেন্দিগঞ্জে ২ নৌযানের ধাক্কায় সাড়ে ১০ হাজার বস্তা সার বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনায় যাত্রী ও জ্বালানীবাহী দুটি নৌযানের ধাক্কায় ডুবে গেছে সাড়ে ১০ হাজার বস্তা সার বোঝাই একটি কার্গো জাহাজ। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে মেঘনার কালিগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকা অতিক্রমকালে বরিশালগামী যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি টিপু-৭ লঞ্চ এবং জ্বালানীবাহী ট্যাঙ্কার এমটি নূরজাহান-১ এর ধাক্কায় এমসিএল সিন্ধু নামে টিএসপি সার বোঝাই জাহাজটি ডুবে যায় বলে জানিয়েছেন এর সুকানী স্বপন মিয়া। তবে এতে কোন হতাহত হয়নি। এই ঘটনা উল্লেখ করে গতকাল দুপুরে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অভিযোগে সারের পরিমান, মূল্য, কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিলো, কতজন ছিল- এসব বিস্তারিত কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।
অভিযোগটি অসম্পূর্ন বলেছেন মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি উজ্জল কুমার দে। তিনি বলেন, তারা নামকাওয়াস্তে অভিযোগ দিয়ে গেছেন। অভিযোগ দেয়ার পর তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। নৌ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় অভিযোগটি ফরোয়ার্ডিং করে মেরিন কোর্টে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
থানায় অভিযোগে দেয়া সুকানীর মুঠোফোন নম্বরে রিং দেয়া হলে তিনি (স্বপন মিয়া) বলেন, লঞ্চে আছি, পাড়ে ওঠার পর কথা বলবো। অভিযোগে কার্গোতে থাকা সারের পরিমান উল্লেখ করা হয়নি কেন এবং পরিমান জানতে চাইলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, কার্গোতে সাড়ে ১০ হাজার বস্তা সার ছিল। ২টি নৌযানের ধাক্কার পর সেটি ডুবতে ডুবতে একেবারে কিনারে গিয়ে ঠেকেছে। এতে কার্গোর বেশীরভাগ সার পানিতে ভিজে গেলেও কিছু পরিমান অক্ষত থাকতে পারে বলে তাদের ধারনা। ডুবে যাওয়া জাহাজের ১০ শ্রমিক-কর্মচারী অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্ভরযোগ্য ওই সূত্র।
বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. শহীদ উল্যাহ, নৌ সংরক্ষন ও পরিচালন কর্মকর্তা মো. শাহজল হক এবং নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আবুল বাশার মজুমদার সারবাহী কার্গো ডুবে যাওয়ার খবর জানেন না বলে জানিয়েছেন। তবে মো. শাহজল হক জানান, মেহেন্দিগঞ্জের লালখারাবাদ পর্যন্ত বরিশালের আওতাভুক্ত। এরপরের অংশ চাঁদপুরের অধীন বলে দাবী তার।