মৃদু ভুমিকম্পে নগরময় আতংক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সারাদেশের ন্যায় মৃদু ভূমিকম্পে প্রকম্পিত হয়েছে বরিশালও। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা ১১মিনিটের দিকে বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভব করেন নগরবাসী। এসময় মানুষজন আতঙ্কে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বহুতল ভবন ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসেন মানুষ। তবে ভুমিকম্পে বরিশালের কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল শনিবার বেলা ১২টা বেজে ১১ মিনিটে সারা দেশের ন্যায় বরিশালেও ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে। প্রায় ৫ মিনিটের মৃদু ভূকম্পে কেপে উঠে গোটা নগরী। হঠাৎ করেই স্তব্দ হয়ে যায় নগরী। ভূকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবন ধ্বসের আশংকায় শিশু সন্তান সহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ। এমনকি হাসপাতালগুলোতেও ভূমিকম্প অনুভবন করে রোগীদের ফেলে রেখে জীবন রক্ষায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসেন চিকিৎসক। চিকিৎসকের দেখা দেখে হাসপাতাল ত্যাগ করে বাইরে চলে আসেন অনেক রোগী। তাছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রেও ভূমিকম্পের প্রভাবে সৃষ্টি হয় হ য র ল ব অবস্থার। এমন চিত্রই প্রত্যক্ষ করা গেছে গতকাল শনিবার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল ছিল অনার্স ২য় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ২য় দিন। তখন নগরীর বিএম কলেজে সু-শৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা দিচ্ছিল শিক্ষার্থীরা। ঠিক সেই মুহুর্তে ভূকম্পে কেপে উঠে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভবন। তখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতংকে পরীক্ষার হল থেকে ছোটাছুটি করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তা আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
বিএম কলেজের বানিজ্য ভবনে অনার্স ২য় বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা বরিশাল কলেজের ছাত্র সঞ্জয় রায় জানান, পরীক্ষা দেয়ার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরাতে শুরু করে। প্রথমে ভেবেছিলাম সকালে না খেয়ে আসায় এমনটা হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো পুরো ভবনটি কম্পিত হচ্ছে।
তবে এর থেকেও চরম অবস্থা দেখা গেছে নগরীর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালের বহিঃবিভাগে রোগীরা চিকিৎসকের অপেক্ষায় ছিলো সাড়িবদ্ধ ভাবে দাড়িয়ে। চিকিৎসক চেম্বারের ভেতরে রোগী দেখছিলেন। ঠিক সেই মুহুর্তে ভুকম্পনে কেপে ওঠে হাসপাতাল ভবন এবং চিকিৎসকের চেয়ার। বিষয়টি আচ করতে পেরে চিকিৎসক রোগী দেখা ফেলে আত্মরক্ষায় দৌড়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে নিরাপদ আ¯্রয়ে যান। চিকিৎসকের এমন পরিস্থিতি দেখে তার পেছনে ছোটতে শুরু করেন রোগীরাও। আবার অনেকে ভুকম্পনের কারনে সৃষ্টি হওয়া পুকুর এবং নদীর পানি জোয়ার-ভাটার ন্যায় একুল-ওকুল করার সৃদ্য প্রত্যক্ষ করেন উৎসুক জনতা।
অন্যদিকে মেডিকেল কলেজে চলছিলো ছাত্রলীগের বিক্ষোভ। ভুকম্পনের অনুভুতিতে তারাও স্তব্দ হয়ে কলেজ ভবন থেকে বের হয়ে নিরাপদ আ¯্রয়ে চলে যান।
নগরীর কলেজ রো- এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, পুকুর পাড় থেকে হেটে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই অনুভুতি হয় তার মাথা ঘুরছে। পাশে তাকিয়ে দেখি পুকুরের পানি দোলছে। জোয়ার-ভাটার নায় এপাশ থেকে ওপাশে যাচ্ছে পানি। এক পর্যায়ে পানি রাস্তার উপরে উঠে আসে। ভুমিকম্পের প্রভাবে অনেক বাড়ি ঘরেও পুকুর এবং নদীর পানি প্রবেশ করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
জানতে চাইলে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষগন তাদের রিকটা স্কেল সহ প্রয়োজনিয় যন্ত্র’র অভাবে বরিশালে ভুমিকম্পের মাত্রা নির্ধারন করা সম্ভব হয়নি। তবে তারা বলেন, নেপাল থেকে উৎপত্তি হওয়া ভূকম্পনটি রাজধানীর ৭৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে আঘাত হেনেছে। এ সময় ৭.৫ মাত্রায় প্রকম্পিত হওয়া ভূকম্পনটি ২৭ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।
বরিশাল ফায়ার ষ্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, ভূকম্পনের ফলে নগরীর কোন জায়গায় কোন ধরনের ক্ষতির খবর পায়নি তারা। তবে যে ভুকম্পন হয়েছে তাতে ঝুকিপূর্ণ বহুতল ভনের ফাটলের পাশাপাশি আরো বেশি ঝুকিপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. আজাদ রহমান জানান, ভুমিকম্পের তেমন প্রভাব পড়েনি বরিশালে। এখানে মৃদু ভূকম্পনে জনপদ ও ভবন কেপে উঠলেও কোথাও কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাননি তারা।