মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে বরিশাল-ভোলা সড়কের যাতায়াত

সিদ্দিকুর রহমান ॥ সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ন বরিশাল-ভোলা সড়কের চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে ২ কিলোমিটার (জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত) চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও মেরামতের অভাবে সড়কে খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিকপ্ল কোন ব্যবস্থা না থাকায় অনুপযোগি এ সড়ক দিয়ে বাধ্য হয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রা করছে পূর্বাঞ্চলের ৫০ উপজেলার বাসিন্দারা। সব সময় মৃত্যু ঝুকিতে থাকছে তারা। মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গন ঝুকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু ব্যস্ততম এই সড়ক সংস্কারে কারো কোন উদ্যোগ নেই।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, চরকাউয়া খেয়া ঘাট থেকে ৬ রুটে মিনিবাস চলাচল করে। এছাড়াও রয়েছে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল, রিকসা, অটো, ভ্যান, সাইকেল। প্রতিদিন এখান থেকে ৫০ উপজেলার অর্ধ লক্ষ লোক যাতায়াত করে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয় না। খানা-খন্দ এখন বড় বড় গর্তে পরিনত হয়েছে। তার উপর কীর্তনখোলার ভাঙ্গনের মুখে পড়ে সড়কটি অর্ধেকে পরিনত হয়েছে।
যানবাহন চালকরা কোনভাবে নিয়ন্ত্রন হারালে যাত্রী নিয়ে নদীতে পড়া বা অপর পাশের খাদে পড়ার ঝুকি কয়েকগুন বেড়ে গেছে। সাধারন যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন রাস্তায় অতিরিক্ত খানা খন্দের কারনে যানবাহনে তো দূরের কথা হাটতেও কষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও চরম দুর্ভোগে বৃদ্ধ বয়সী মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চরকাউয়া এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ রহিম হাওলাদার জানান, রাস্তাটি দিয়ে হাটতে ভয় লাগে। কারন রাস্তাটি গর্তে পরিপূর্ণ হওয়ায় বাসগুলো রাস্তার পাশ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করে। তাই একটু অসাবধানতার কারনে রাস্তার পাশ দিয়ে চলা সাধারন মানুষগুলো দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাস মালিক ও শ্রমিকদের খাম খেয়ালিপনা ও বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ফলে রাস্তাটির এই পরিণতি। সামান্য সংস্কার হলেও তার স্থায়ীত্ব বেশি দিন হচ্ছে না।
বাস শ্রমিক আরিফ জানান, ভাঙ্গা সড়কে গাড়ি চালানোর ফলে মালিকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায়ই গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হচ্ছে, ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়াও রাস্তার বেহাল দশার কারনে বাসগুলো যেকোন মূহুর্তে উল্টে যেতে পারে। চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান জানান, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে ঈদ এর পূর্ব মূহুর্তে মালিক সমিতির নিজস্ব ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ইট সুড়কি দিয়ে গর্ত ভরাট করেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। একটু বৃষ্টি হলে তা ডোবায় পরিণত হচ্ছে। এই খানা খন্দের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন তিনি।
চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি জানান, এ সড়কে জনগণের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। সড়ক বিভাগ থেকে আগামী ১ মাসের মধ্যে সংস্কার করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে সড়ক ও সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ শাহেদ জানান, রাস্তাটি মূল সড়কের বাইরে শাখা সড়ক হওয়ায় এবং বরাদ্দ না থাকার ফলে সংস্কার হচ্ছে না। পূর্বে এটি মূল সড়ক ছিল। বর্তমানে বাজেটে বরাদ্দ আসলে শীঘ্রই এই রাস্তাটি সংস্কার করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।