মৃত্যুতে মুক্ত মাদক “হেরোইন” সমাজ্ঞী তাসলির বাণিজ্য এক যুগ ধরে রমরমা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যে মাদক দ্রুত মৃত্যুর মুখে নিয়ে যায়, মৃত্যুতে মুক্তি মেলে সেই মাদক হলো “হেরোইন”। এক মাদক সমাজ্ঞীর কারণে নগরীতে ওই “হিরোইন” সেবীদের সংখ্যা নির্মূল হচ্ছে না। হেরোইনের “ডিলার” হিসেবে পরিচিত মাদক সমাজ্ঞী হলো নগরীর নামারচর বস্তির তাসলি। হেরোইন সমাজ্ঞী নামেও তাসলির পরিচিতি রয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে তাসলি নগরীসহ আশে-পাশে পাইকারী ও খুচরা মূল্যে হেরোইন বিক্রি করে আসছে।
তাসলি হেরোইনের বিষ ছড়িয়ে হাজারো সেবীকে নিশ্চিত মৃত্যু হাতে পৌছে দিয়ে নিজে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
আইন-শৃংখলায় ও মাদক নিয়ন্ত্রনে নিয়োজিত বাহিনী, রাজনৈতিক নেতা, ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালীদের পকেটেও তাসলি হেরোইন বাণিজ্যের “বখড়া” বা “মাসোহারা” পৌছে দেয়। যার কারণে তার বাণিজ্য বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাসলির মাদক বিক্রয়ের হাতেখড়ি ঘটে ১০ থেকে ১২ বছর আগে। নাজিরপুল এলাকার বাসিন্দা ঐ সময়ের নগরির বড় মাপের ফেন্সিডিলের ডিলার শহিদকে বিয়ে করে মাদক ব্যবসায় প্রবেশ করে সে।
এর পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রয়ের মাধ্যমে চলে তার রমরমা বাণিজ্য। তবে স্বামী শহিদ প্রশাসনের হাতে আটক সহ নানা ভাবে ঝামেলার সম্মুখিন হয়ে মাদক ব্যবসা থেকে ছিটকে পরলেও ব্যবসার হাল ধরে তা টিকিয়ে রাখে তাসলি। মাদকের রক্ষণ, বহন ও তা বিক্রয়ের নিরাপদ স্থান হিসেবে সে ঘাটি জমায় কির্তনখোলা নদীর তীরে নামারচর এলাকায়। ঐ সময় থেকে আজ পর্যন্ত সে প্রতিবেশী ব্যবসায়ী লাবনীর সাথে সমন্বয় করে এবং সব সেক্টর ম্যানেজ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তার নেটওয়ার্ক এতোটাই শক্ত যে কোন ধরনের প্রশাসনিক অভিযানের পূর্বেই তার কাছে মুঠোফোনে আগাম খবর চলে যায় বলেও জানায় ঐ এলাকার একাধিক বাসিন্দা। তাসলি গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইন বিক্রি করে। তার বিক্রয়ের কৌশলও লাবনীর মত। স্থানীয় শিশু ও নারীদের মাধ্যমেই সে মাদক দ্রব্য ক্রেতাদের হাতে পৌছে দেয়। বড় মাদকের চালান তার প্রতিনিধিরা মাছের ট্রলার, সি-ট্রাক সহ নদী পথের বিভিন্ন মাধ্যমে সরবরাহ করে থাকে। নামার চর এলাকায় বেশ কিছু এমন ঘর রয়েছে যে ঘরের আশ পাশে টাকা হাতে দাড়ালেই তাসলির মাদক দ্রব্য চলে আসে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। বরিশালে বিলুপ্ত প্রায় মাদক হেরোইন এর একমাত্র ডিলার তাসলি বলেও জানিয়েছে একাধিক সূত্র। তাসলির মাদক দ্রব্য বিক্রয়ের কাজ করে তার বোন পুতুল , শিশু আরিফ, পারভেজ সহ একাধিক প্রতিনিধিরা। তাসলি নামারচর, কেডিসি, ফিসারি, বরফকল এলাকায় খুচরা ও পাইকারি মাদক বিক্রেতা। শুধুমাত্র তার কাছ থেকে মাদক কিনে নগরীর অন্যান্য এলাকায় অসংখ্য মাদকের ছোট ছোট বাজার জমে আছে বলেও জানায় এলাকার একাধিক সূত্র। প্রতিদিন সে লাখ টাকার ওপরে মাদক বিক্রয় এবং তা নির্বিঘেœ করতে হাজার টাকার উৎকোচ পুলিশ, ডিবি, মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরকে দিয়ে থাকে। এছাড়াও স্থানীয় প্রভাবশালীদের অনেকেরই সংসার চলে তার দেয়া উৎকোচে। দীর্ঘদিনের ব্যবসা করে কোটি টাকার সম্পত্তি করেছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। নামারচর বরফ কল এলাকায় নিজের ভবন, মরকখোলার পুল এলাকায় বাড়ি, নবগ্রাম রোডে বাড়ি সহ তার একাধিক স্থানে কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। বর্তমানে টিয়াখালি আনসার মল্লিক কলেজের পাশে তার আরো একটি ভবন নির্মণের কাজ চলছে বলে জানায় সূত্রটি। যেখানে হাজার টাকার টাইলসের মাধ্যমে চলছে অলংকনের কাজ। প্রকাশ্যে সব চলছে, সকলেই জানে বিষয়গুলো তবে অজানা কারণে কেউ প্রতিবাদ করছে না। এমনকি বিষয়গুলো একাধিক বার তুলে ধারা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই তাসলি এগিয়ে চলেছে তার গতিতে আর বিষ ছড়াচ্ছে নগরজুড়ে। চলবে…..