মূল্য হ্রাসের ফাঁদে ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে নগরীর পোশাকের মার্কেট গুলোতে মূল্যহ্রাসের নামে চলছে ব্যাপক প্রতারণা। সেই প্রতারণার ফাঁদে পড়ছে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা সাধারন মহিলারা। মূল্যহ্রাসে কম দামে ভাল কাপড় ক্রয়ের আশায় এসে প্রতিনিয়ত ঠকছেন তারা। দেখা দেছে প্রতি বছর চৈত্র মাসের ১০ তারিখ থেকে ১ বৈশাখ পর্যন্ত শাড়ি, পাঞ্জাবী সহ জুতার দোকান গুলোতে মূল্যহ্রাসের ঘোষণা করে। নগরীর চকবাজার, কাটপট্টিসহ মার্কেট গুরে দেখা গেছে দিনের বেলায় গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের ভিড়ে তিল পরিমাণ ফাঁকা থাকে না। আবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও দেখা গেছে আরেক চিত্র শহরের নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের মহিলাদের সমাগম। সবাই ব্যস্ত কমদামের ভাল পন্য কেনাকাটায়। সারা বছর যেসব থান কাপড়ের গজ বিক্রি হতো ৭০ টাকায় এখন মূল্য হ্রাসের সময় তা ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও সেসব থ্রী পিসের পূর্বমূল্য ছিল ৩০০০-৫০০০টাকা তা বর্তমান ছাড়ে ২০০০-২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে জুতার দোকান গুলোতে একই চিত্র বিদ্যমান। পুরাতন জুতাগুলো গনহারে বিক্রি করছে। দেখা গেছে ক্রেতারা ঐ সমস্ত জুতা কিনে ১ সপ্তাহ বেশি ব্যবহার করতে পারছে না। চকবাজারের পোশাকের দোকানের কর্মচারী বাপ্পী জানান, ব্যবসায়ীদের প্রতারনার আসল কথা। তিনি জানান মূল্যহ্রাসে বাণিজ্যের জন্য কাপড়াদি ঢাকার কালিগঞ্জ ও জিঞ্জীরা থেকে অর্ডার দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তৈরি করে নিয়ে আসেন এখানকার ব্যবসায়ীরা এই সমস্ত কাপড়গুলোর মূল্য মান সম্মত কাপড়ের চেয়ে এমনিতেই অর্ধেক। যার ফলে কম দামে বিক্রি করলেও তাদের লাভ ঠিকই থাকছে। এই বিষয়টি না জেনে সাধারণ ক্রেতারা কম দামে কাপড় কিনে লাভবান হচ্ছে বলে মনে করেন তারা। এছাড়াও নি¤œ মানের কাপড়গুলো একবার ধোয়ার পর আসল রূপ বেরিয়ে আসছে। এদিকে শাড়ির বেলায় ঘটছে একই রকম চিত্র, পুরনো শাড়ির ভাজ পাল্টে বিক্রি করা হচ্ছে। মূল্যহ্রাসের সময় কাপড় ব্যবসায়ীদের নিয়ম করেছে বিক্রিত মাল অফেরতযোগ্য। তাই ক্রেতারা এইসব পন্য কিনেও ফেরত দিতে পারছেন না। বানারীপাড়া থেকে মূল্যহ্রাসের কাপড় কিনতে আসা আয়েশা খাতুন জনান, প্রতি বছর এই মূল্য হ্রাসের কাপড় কিনতে আসা হয়। কম দামের ভাল পন্য ক্রয় করা যায় বলে তিনি ধারনা করেন। এদিকে প্রতারনা বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলে এমনিতেই কম দামে কেনা যাচ্ছে যার ফলে যে রকম ভাবে যাচাই বাছাই করি না। নগরীর জুতার মার্কেটের নামি দামি একটা দোকানে জটলা দেখে এগিয়ে যেয়ে শোনা যায় মূল্য হ্রাসের পণ্য ফেরত দেয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সিএন্ডবি রোডের বাসিন্দা জুতা ক্রেতা নাসির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ১ হাজার টাকা দিয়ে জুতা ক্রয় করি। কিন্তু ৩ দিন যেতে না যেতেই জুতার তলা খুলে যায়। তাই ফেরত দিতে আসছি। কনজ্যুমার এ্যসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বরিশালের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়টি ক্রেতাদের মাঝে পরিলক্ষিত না হলেও প্রশাসনের এদিকে নজর দেয়া উচিত বলে মনে করেন।