মুলাদীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষাদান, আতংকে শিক্ষার্থীরা

মুলাদী প্রতিবেদক॥ মুলাদীতে ভাঙ্গা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে গাছুয়া আব্দুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম। যে কোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তবুও শ্রেণি কক্ষের অভাবে বাধ্য হয়েই ভাঙ্গা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসে ক্লাস করছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মিত ভবনটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিভাবক ও স্থানীয়রা দাবী করেছেন। ভবনটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের ইট, রড, সিমেন্ট ব্যবহার করার ফলে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঠিকাদারের বিল আটকে দিলেও কৌশলে ঠিকাদার বিল উঠিয়ে নেয়। বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙ্গা ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে লেখাপড়ার জন্য পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন। তাদের সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটান। জানা গেছে ১৯৭১ সালে মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ও চরকালেখান ইউনিয়নবাসীর শিক্ষার লক্ষে এলাকার শিক্ষাবিদ আলাবক্স সিকদার উদ্যোগ নিয়ে গাছুয়া আব্দুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সাথে সাথে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী বেড়েছে, বেড়েছে শিক্ষার মান। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের তুলনায় বিদ্যালয়টিতে পর্যাপ্ত ভবন এবং খেলাধুলার জন্য ভালো কোনো মাঠ নেই বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দীন। ১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থ বছরে বিদ্যালয়টিতে চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ভবনটি নির্মাণের সময়ে ঠিকাদার নিম্নমানের ইট, রড, সিমেন্ট ব্যবহার করায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করলে তিনি ঠিকাদারের বিল আটকে দেয়। তবুও কৌশলে ঠিকাদার বিল তুলে নেয়। ভবন নির্মানের ১৫/১৬ বছরের মধ্যেই ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং ছাদের পলেস্তরা খসে পড়তে শুরু করে। বর্তমানে ওই ভবনটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। যে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদানের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় গ্রুপ ক্লাস করানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। এদিকে শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য ভালো কোনো মাঠের ব্যবস্থা নেই বিদ্যালয়টিতে। ফলে শিক্ষার্থীরা বিরতির সময়ে বিদ্যালয় সংলগ্ন বাজারের চায়ের দোকানো কিংবা অন্য কোনো জায়গায় আড্ডা দিয়ে সময় কাটায়। মাঠের অভাবে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষাথীদের আন্তরিকতা বিনষ্ট হচ্ছে বলে জানায় শিক্ষক ও অভিভাবকরা। মাঠে খেলাধুলা করতে পারলে তাদের মধ্যে আন্তরিকতা বৃদ্ধি পেত বলে দাবী করেছে অনেকে। বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ এবং মাঠের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।