মুখোমুখি জাতীয় পার্টি এক পক্ষের এরশাদকে আনার ঘোষনা অপর পক্ষের প্রতিহতের

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ জাতীয় পার্টির (জাপা) জেলা ও মহানগর শাখার বিবাদমান দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছে সাবেক সাংসদ গোলাম কিবরিয়া টিপু ও অপর পক্ষের এ্যাডঃ মহসিন উল ইসলাম হাবুল। গত কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষেই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী পালন করেছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে এক পক্ষ পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোঃ এরশাদকে এনে সম্মেলন করার ঘোষনা দিয়েছে। অপর পক্ষ চেয়ারম্যান যেন আসতে না পারে সেই জন্য কমিটি গঠন করেছে। এছাড়াও চেয়ারম্যানের আগমন রুখতে পার্টির মহাসবিচ ও প্রেসিডিয়াম সদস্যকে অবাঞ্চিত ঘোষনার প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ সিটি প্লাজার তৃতীয় তলায় জাপার প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক সাংসদ জেলার আহবায়ক গোলাম কিবরিয়া টিপুর নেতৃত্বাধীন মহানগরের আহবায়ক কাউন্সিলর একেএম মুরতজা আবেদিন ও সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন ভাট্টি পক্ষ। সেখানে জাপার জেলা ও মহানগর শাখার নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানিয়ে বলা হয়েছে, মহানগর জাপার কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ সম্মতি জানিয়েছেন। পার্টির অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় পার্টির তৃণমূল নামে সভা আহবান করেছে যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিভ্রান্তিকর দাবী করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানানো হয় জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন চেয়ারম্যান এরশাদ। ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট উভয় কমিটির মধ্যে জেলার আহবায়ক হলেন সাবেক সাংসদ গোলাম কিবরিয়া টিপু। আর মহানগরের আহবায়ক কাউন্সিলর মরতুজা আবেদীন ও সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন ভাট্টি, জাপার সচিব আলতাফ হোসেন ভাট্টি। জাপার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্যের জন্য মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ বাবলু ও দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ এবং সহ দপ্তর সম্পাদক আবুল হাসান আহমেদ জুয়েলের মোবাইলে ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগের আহবান করেছে। সম্মেলনে অপর পক্ষের নেতা অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল ও মীর জসিম উদ্দিনকে বানোয়াট পদবী ব্যবহার করার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ, মহানগরের সদস্য সচিব বশির উদ্দিন আহমেদ ঝুনুকে অব্যহতি দিয়ে আলতাফ হোসেন ভাট্টিকে দায়িত্ব দেয়ার পত্র দেয়া হয়েছে। এরশাদের হাত শক্তিশালি করতে ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করার আহবান জানানো হয়। অপরদিকে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত আইনজীবী সমিতি জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর তৃণমূল নেতা কর্মীদের সভা হয়। সেখানে তৃণমূল ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কোন কর্মসূচী করতে চাইলে জীবন দিয়ে প্রতিহতের ঘোষনা দেয়। সেখানে দাবী করা হয়, যেনতেন সম্মেলনে চেয়ারম্যানকে আনা হলে তা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর সভাপতি মীর জসিম উদ্দিন, বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি রুস্তুম আলী খান, রফিকুল ইসলাম গফুর। দিক নির্দেশমূলক বক্তব্য দেন জেলার যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বশির আহম্মেদ ঝুনু, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন হাবিল, যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সহ ৩০ ওয়ার্ডেল নেতাকর্মীরা। সভায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমন্বয় ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় পার্টি গঠনে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। সেখানে চেয়ারম্যান এরশাদকে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সিমা ও সিদ্ধান্ত গ্রহনের তথ্যে ১৮ নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা হলেন, আলহাজ্ব মীর জসিমউদ্দিন জসিম, রফিকুল ইসলাম গফুর, রুস্তুম আলী খান, বশির আহম্মেদ ঝুনু, ফরহাদ হোসেন হাবিল, মনজুরুল আলম খোকন, রফিকুল ইসলাম সবুজ, ফোরকান তালুকদার, শাহীন নূরে আলম সাজু, বাবু ননী গোপাল, এ্যাডঃ আলবার্ট অপু, শাহজাহান মস্তান, ছালাম বেপারী, সৈয়দ মজিবুর রহমান নাছির, মোঃ মজিবর রহমান, মোঃ শাহ আলম সিকদার, খাজা শফিউল্লাহ দীপু, মরিয়ম বেগম। এরপরেও চেয়ারম্যান এরশাদকে যেন আনতে না পারে সেই জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি সদস্যরা হলো- এ্যাডঃ আঃ জলিল, এ্যাডঃ বশির আহম্মেদ সবুজ, এ্যাডঃ জুবায়ের, ওবায়দুল হক বাদল, খালিদ মাহামুদ, আঃ জলিল, আবুল হোসেন।