মা দূর্গার বিসর্জন

চন্দন জ্যোতি॥ শেষ হলো সনাতন ধর্ম মতাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দূর্গোৎসব। শাস্ত্র অনুযায়ী এ বছর দূর্গা পূজা ৪দিনের মধ্যে শেষ হলেও অনেকটা প্রতি বছরের ন্যায় উৎসবের বিসর্জন ৫ম দিনে নিয়ে আসে। জগতের দূর্গতি নাশ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবী দূর্গার বন্দনা বা পূজা করা হয়। তবে বেশ কিছু বছর ধরে দেখা গেছে দূর্গা পূজার মূল তাৎপর্য থেকে মানুষ ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যাচ্ছে। অনেকটাই এখন আনুষ্ঠানিকতায় এসে পৌছেছে শুধুই দামী দামী পোষাকে নিজেকে ঢেকে রাখা সেই সাথে বিপুল অর্থের অপচয় পূজার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। একটি সময় ছিলো যখন মন্ডপে মন্ডপে ঢাক আর কাসের বাদ্যে মুখরিত হয়ে উঠতো। ধর্মীয় আচারে আলতী(নৃত্য), দেবী দূর্গার বন্দনা করা হতো। সেখানে এখন অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছে হিন্দি আর ইংরেজী গানের সমাহার সেই সাথে আধুনিক বাদ্য যন্ত্রের তালে তালে উদ্ভট নৃত্য যা শারদীয় দূর্গোৎসবের ধর্মীয় ভাবধারাকে করছে কলুশিত। আবার কিছু কিছু মন্ডপে দেখা যায় বিশেষ করে দেবী বিসর্জনের রাতে মন্ডপ কমিটি সংশ্লিষ্ট একটি শ্রেণীর নানা কু-খাদ্য (মাদক) ভক্ষণ করে মাতলামী করতে। যা উৎসবকে করে তুলছে প্রশ্নবিদ্ধ। যার ফলে দুর্গোতিনাশিনী, শান্তিরূপিনী দেবী দূর্গা প্রতি বছরই এই ধরায় আগমন করলেও সঠিক আচার অনুষ্ঠানের অভাব এবং নৈতিকতার অধপতনের কারনে সমাজ থেকে দূর হচ্ছে না দুর্গতি। আর এসব কারনেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেকটাই দুরূহ হয়ে উঠেছে। এমনটি মনে করছেন অনেকেই। এদিকে এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসব শুরুর পূর্বে বরিশাল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এক প্রস্তুতি সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছিলো শারদীয় দুর্গোৎসবে যে অন্যান্য বছর গুলোর মত হিন্দি বা ইংরেজী গানের সুর যেন বাজানো না হয়। মন্ডপে মন্ডপে বাজবে ঢাকের বাদ্য। পূজার দিনগুলোর মধ্যে অন্তত্য একটি দিন মন্ডপে মন্ডপে দুর্গা পূজার লক্ষ্য ও এর তাৎপর্যের ওপর আলোচনা সভা করা হবে। ঐ সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলমের প্রস্তাবে বরিশাল জেলা ও পূজা উদযাপন পরিষদের এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন মন্ডপের নেতৃবৃন্দের সমর্থনে ঐসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অথচ বাস্তবে ৫দিন ব্যাপী শারদীয় উৎসবে তা অনেকটাই ছিলো উপেক্ষিত। কিন্তু কেন এর উত্তরে নগরীর মন্ডপ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতৃবৃন্দের মতামত ছিল সারাদিন পূজা নিয়ে ব্যস্ততা আর রাতে দর্শনার্থীদের ভীড়ে আলোচনা সভার সময় পাওয়া যায় না। আবার এটা সম্ভবও নয়। তবে হিন্দি আর ইংরেজী গানের সাথে উদ্যাম নৃত্যের বিষয়টি এড়িয়ে যান।