মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে ৬ দিনে ১৫৭ জেলের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে বরিশাল জেলার কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলা নদীতে অভিযানে চালিয়ে ১৪ জেলেকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবারে দিবাগত রাত থেকে গতকাল শনিবার বিকাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর নেতৃত্বে মৎস বিভাগ ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রায় একশত কেজি ইলিশ ও ১৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল সদর নৌ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, সর্বশেষ গতকাল শনিবার বিকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রিপন বিশ্বাস’র নেতৃত্বে কীর্তনখোলা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় নদীর কালিজিরা পয়েন্ট থেকে ৩ জন জেলে আটক করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও প্রায় ৫০ কেজি ইলিশ। পরবর্তীতে আটককৃতদের নগরীর ডিসি ঘাটে নিয়ে এসে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৫ দিন করে করাদন্ড দেয়া হয়। অভিযান কালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র মজুমদারও উপস্থিত ছিলেন।
দন্ডপ্রাপ্ত তিন জেলে হলো সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার বাসিন্দা আয়ুব আলী’র ছলে আ. হালিম (২৫), হক মজুমদারের ছেলে মিলন মজুমদার (২০) ও একই এলাকার আব্দল ছত্তার এর ছেলে পারভেজ হাওলাদার (২৫)। আটককৃতরা দাবী করেছেন তাদেরকে চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকা থেকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে কোন জাল কিংবা মাছ উদ্ধার করা হয়নি। যে যাল এবং মাছ উদ্ধার হয়েছে তা কালিজিরা এলাকা থেকে উদ্ধার করা। এগুলোর সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি বলে দাবী তাদের।
অন্যদিকে বিকালে হিজলা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আরো তিন জেলেকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ইলিশ ও জব্দ করা হয়েছে কারেন্ট জাল। আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া বরিশাল জেলায় আটক হওয়া ১১ জেলেকে এক মাস করে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
এদিকে বিভাগীয় মৎস্য অফিসের সহকারী পরিচালক আজিজুল হক জানিয়েছেন, অভিযানের শুরু থেকে গত ছয় দিনে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মোট ১৫৭ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া আদায় করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬শত টাকা জরিমানা। জব্দ করা হয়েছে ২ হাজার ৭৭৫ কেজি ইলিশ ও ১২ হাজার ৬শত মিটার অবৈধ জাল।
তিনি আরো জানান, গত ১ আক্টোবর থেকে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত বরিশালে মোট ৫৩৬টি অভিযান ও ২৬২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। এর অনুকুলে ১৪৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে মাছ ধরার তিনটি নৌকা ও দুটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার।