মায়ের অবহেলায় প্রাণ গেল স্কুল ছাত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মায়ের অবহেলায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হলো নগরীর এআরএস স্কুলের ৯ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী সায়েলা আক্তার মেরীর (১৪)। গত রোববার রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে গতকাল সোমবার অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়। মৃত সায়েলা নগরীর কাজীপাড়া এলাকার রওশন আরা মঞ্জিলে মা-ছোট ভাইকে নিয়ে দাদা-দাদীর সঙ্গে থাকত। তার বাবা মাসুম বিল্লাহ সৌদী আরব প্রবাসী।

তবে সায়েলার নিজ বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে। গত প্রায় পাঁচ মাস পূর্বে অর্থাৎ মার্চ মাসে স্বরূপকাঠির একটি স্কুল থেকে টিসি নিয়ে নগরীর আমতলার মোড় এআরএস বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখা পড়া শুরু করে সে।

নিহত সায়েলা আক্তার মেরীর মা নওমুসলীম শারমিন আক্তার রিমা জানান, পারিবারিক কারণে তিনি তার মেয়ে সায়েলা এবং ছোট ছেলে রায়হানকে নিয়ে নগরীর কাজীপাড়া এলাকায় বাসবাস করে আসছেন। তার মেয়ে সায়েলা ঋতুস্রাবের কারণে শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিলো। গত রোববার রাতে নিজেদের বাথরুমে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যায় সায়লা। তবে বিষয়টি ততটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। কেননা রাতে সায়েলার কথাবার্ত এবং আচারণ স্বাভাবিক ছিলো।

তাছাড়া তিনি জানান, সায়েলা পড়ে গিয়ে মাথায় কিছুটা আঘাত পেয়েছে জানার পরে পার্শ্ববর্তী কোন এক ফকিরের কাছ থেকে পড়া পানি এনে মেয়েকে পান করায়। ভেবে ছিলেন এতে সায়েলা ভালো হয়ে যাবে।

এদিকে গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়ে সায়েলা। তাৎক্ষনিকভাবে পরিবারের স্বজনরা তাকে নিয়ে আসে শেবাচিম হাসপাতালে। তখন জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এআরএস স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, গত মার্চ মাসে বিজ্ঞান বিভাগে এসে ভর্তি হয় সায়েলা আক্তার মেরী। মেধাবী ওই ছাত্রী গত দুই দিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল। কিন্তু কি কারণে তা স্কুল কর্তৃপক্ষকে তার পরিবার থেকেও অবহিত করা হয়নি।

এদিকে কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করা শেবাচিম হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, কিশোরীকে মৃত্যুর পরে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। যে কারণে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। যে কারণেময়না তদন্ত করার প্রয়োজন ছিলো।

অপরদিকে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ্ মো. আওলাদ বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি। তাছাড়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের সুপারিশ করা হয়েছে। যে কারণে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে কিশোরীকে তার নিজ বাড়ি স্বরুপকাঠিতে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হয়েছে।