মালয়শিয়া ও সৌদিতে তৃতীয় ধাপে বরিশাল বিভাগের কোটায় ১ হাজার ৮৫ জন

ওয়াহিদ রাসেল॥ কর্মসংস্থানের অভাবে দিন দিন বেকারদের বিদেশের পথে যাত্রা বেড়ে চলছে। জনসংখ্যা ও শিক্ষার হার বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি কর্মসংস্থানের সুযোগ। ফলে বেকারত্বের সংখ্যা দিন দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারনে কর্মসংস্থানের খোঁজে অজানার পথে পাড়ি জমাচ্ছে যুব সমাজ। হারিয়ে যাচ্ছে প্রাণশক্তি। পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের দেয়া এক তথ্যে জানা গেছে, গত ১০ বছরের বরিশাল সহ অন্যান্য জেলাগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুন। একই সাথে বেড়েছে শিক্ষার হার। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই কম। ফলে বেকারত্বের সাথে সাথে বেড়ে চলেছে যুব সমাজের ধ্বংস। এই ধ্বংসের হাত থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কিছুটা হলেও রক্ষা পাচ্ছে যুব সমাজ। নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নতির লক্ষ্যে ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে নিজের জন্মভূমি ও আপনজনদের ছেড়ে তারা বিদেশে পাড়ি জমায়। জেলা কর্মসংস্থান জনশক্তি অধিদপ্তরের দেয়া এক তথ্য বিবরনীতে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের জন্য ভিসা ছাড়া হয়। এতে সারা বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার লোক নেয়ার কথা জানানো হয় এবং ৩ ভাগে ১০ হাজার করে নেয়া হয়। এতে লোক নেয়ার প্রথম ধাপে বরিশাল বিভাগে ৭৬২ কোটা দেয়া হয়। এর মধ্যে বরগুনা জেলায় ৮৪ কোটা থাকলেও ভিসা দেয়া হয় ৩৫টি। যার মধ্যে ১ জন মেডিকেল পরীক্ষায় বাদ পড়ে এবং বাকি ৩৪ জনকে পাঠানো হয়। এছাড়াও ভোলা জেলায় ১৬৫ জনের জন্য ৭২টি ভিসা দেয়া হয়। এ মধ্যে ৬ জন অনুপস্থিত ও ৩ জন শারীরিক সমস্যার কারনে বাদ পড়ে। বরিশাল জেলায় ২০০ জনের জন্য ভিসা দেয়া হয় ১০৪ টি। এতে অনুপস্থিতি ও শারীরিক অসুস্থতার জন্য ১২ জন বাদ পড়ে। একইভাবে ঝালকাঠি জেলায় ৬২ জনের জন্য ৪০টি ভিসা দিলেও ৩৪ জনকে পাঠানো হয়, বাদ পড়ে ৬ জন। পিরোজপুর জেলায় ১০১ জনে ৬৯টি ভিসা দেয় হয় এবং ৭ জন বাদ পড়ে। পটুয়াখালি জেলায় ১৫০ জনে ভিসা দেয়া হয় ৮৬টি এবং পাঠানো হয় ৭৭জন। ওই অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ ইমদাদুল হক জানান, ওই কর্মসস্থানের ২য় ধাপের ও লোক নেয়া সম্পন্ন হয়েছে। এবার ৩য় ধাপের লোক নেয়ার কাজ চলছে। এবার বরিশাল বিভাগ থেকে মোট ১ হাজার ২২ জনকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে পাঠানো হবে। এর মধ্যে বরিশাল জেলা থেকে নেয়া হবে ২০৯ জন, পটুয়াখালী থেকে ৪৩৬ জন, পিরোজপুর ৮৯ জন, বরগুনা ৮৬, ঝালকাঠি ৫৬ ও ভোলা থেকে ২০৯ জন। বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার এবারের সময়সীমা নির্ধারন করা হয়েছে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেয়ার এই মাসের শেষের দিন পর্যন্ত থাকতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, পিরোজপুর, বরগুনা ও ভোলার প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ শেষ হলেও তারা এখন জমা দিতে পারবে। এছাড়াও তিনি জানান, বিদেশে যাওয়ার জন্য ২২৩টি মেডিকেল পরীক্ষার প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন। বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বাস্থ্যগত অযোগ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যাদের বয়স ১৮’র নিচে এবং ৪৫’র উপরে, ওজন ৫০কেজির কম, ২৫ কেজি ওজন বহন করতে যে অক্ষম। এছাড়া ৫ ফুটের নিচে উচ্চতা রয়েছে এবং জটিল কোন রোগে আক্রান্ত এমন ব্যক্তিরা।