মামলা তুলে নিতে এবার বাদীকে এন-কাউন্টারের হুমকি দিলো এসআই মহিউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চাঁদা না দেয়ায় কথিত চুরি মামলায় আসামী করার পরে এবার মামলা তুলে নিতে বাদীকে এন-কাউন্টারের হুমকি দিয়েছে চাঁদাবাজী মামলার আসামী কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দিন ও তার সহযোগিরা। আর তাই দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা ও তার সহযোগির বিরুদ্ধে মামলা করে জীবন শংকায় পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে বাদী, স্বাক্ষি এবং তাদের পরিবারকে। যে কারনে আলোচিত এবং দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন মামলার বাদী এবং স্বাক্ষিরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআই মহিউদ্দিন এবং তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ও দাবী জানিয়েছেন মামলার বাদী এবং স্বাক্ষিরা।
প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক মাঈনুল হাসান মিলনায়তে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, পুলিশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী নগরীর রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা রিপন মৃধা। লিখিত বক্তব্যে তিনি সহ তার ব্যবসায়ীক পার্টনারদের নাটকিয় ভাবে চুরি মামলার ফাঁসানোর কৌশল এবং থানায় ২৪ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতনের বর্ননা দিয়ে বলেন, শ্রমিক নেতা সবুজ খান এর বাসায় রহস্যজনক ভাবে চুরি সংঘটিত হয়। এই ঘটনায় সবুজ খানের ছেলে আসাদুজ্জামান রাতুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দিন।
রিপন মৃধা বলেন, রূপাতলীর একই এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন, রিপন আকন সহ তারা ৪/৫ জন মিলে নার্হল প্রোপারিটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা জমি ক্রয়-বিক্রয় করে জিবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাদের ব্যবসার প্রতি ঈর্র্ষান্বিত হয়ে ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর ধান গবেষণা রোড এলাকার বাসিন্দা এবং কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দিন ব্যবসা পরিচালনার জন্য তাদের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। টাকা না দিলে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি চুরি মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।
রিপন মৃধা আরো বলেন, চাঁদার টাকা না পেয়ে ১৯ অক্টোবর এসআই মহিউদ্দিন এবং তার ৪/৫ জন সহযোগী রিপন মৃধা এবং তার ব্যবসায়ীক পার্টনার মো. আফজাল খানকে বাসায় এসে থানায় কথা বলার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাদের দু’জনকে আটকে রেখে নির্মম ভাবে শারীরিক এবং মানষিক নির্যাতন করে। এমনকি থানায় ২৪ ঘন্টা আটকে রেখে শ্রমিক নেতা সবুজ খান এর ছেলের দায়ের করা চুরি মামলায় তাদের আসামী করা হয়। এছাড়া ২৭ অক্টোবর একই ভাবে একই এলাকার বাসিন্দা রিপন আকনকেও তার বাসা থেকে ডেকে নেয় এসআই মহিউদ্দিন। পরবর্তীতে তাকেও ২ দিন থানায় আটকে রেখে এন-কাউন্টারের ভয় দেখিয়ে চুরি মামলায় ফাঁসিয়ে দেন। এমনকি ২৯ অক্টোবর আদালতে হাজির করে চুরি মামলার দায় স্বীকার করে নিতে হয় তাকেও। শুধু তারা তিনজনই নয়, ওই চুরি মামলায় মোট ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রিপন মৃধা অভিযোগ করে বলেন, থানায় আটকে রেখে চুরি মামলায় আসামী হিসেবে নিজেদের দায় স্বীকার করে নিতে এসআই মহিউদ্দিন আমাদের উপর নির্মম ভাবে নির্যাতন চালায়। এমনকি আদালতে স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্ধি না দিলে এন-কাউন্টার দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এসআই মহিউদ্দিন। শুধু তাই নয়, আদালতে জবানবন্দি দেয়ার সময় এসআই মহিউদ্দিন পাশে দাড়িয়ে থেকে চোখের ইশারায় কোমড়ে থাকা পিস্তল দেখিয়ে এন-কাউন্টার এবং রিমান্ডের ভয় দেখায় এসআই মহিউদ্দিন। যে কারনে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে চুরির দায় স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তবে এই ঘটনাটি জানাজানি হলে কোতয়ালী মডেল থানার বিতর্কিত এসআই মহিউদ্দিনকে তিন দিনের জন্য থানা থেকে ক্লোজড করা হয় বলেও দাবী করেন রিপন মৃধা।
তিনি আরো বলেন, মিথ্যা চুরির দায় স্বীকার করে নেয়ায় আমাদেরকে ২ মাস ১৮ দিন কারাবরন করতে হয়েছে। কারাগারের হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা করিয়েছেন তারা। জেল থেকে বের হয়ে তাদেরকে মিথ্যা চুরি মামলার আসামী এবং চাঁদাবাজীর অভিযোগে ৮ ফেব্রুয়ারী চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যে মামলায় কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মহিউদ্দিন সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। বিচারক মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে চাঁদাবাজীর অভিযোগ এনে মামলা করায় আরো ক্ষিপ্ত হয় এসআই মহিউদ্দিন। এর জের ধরে প্রতিনিয়ত বাদী এবং স্বাক্ষি সহ পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে ভয়-ভিতি প্রদর্শন করছেন। কখনো তিনি নিজে আবার কখনো লোক পাঠিয়ে দিয়ে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে এসআই মহিউদ্দিন বাদী এবং স্বাক্ষিদের এন-কাউন্টারের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রিপন মৃধা ছাড়াও এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চাঁদাবাজী মামলার স্বাক্ষি আলী রেজা খান, মো. শামিম খান, বিপন আকন, মোতালেব সিকদার, মনু হাওলাদার, আফজাল খান ও মো. শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।