মান্না পাহাড়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আরো দুই আসামী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালে সাপুড়ে মান্না পাহাড়িকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অন্যতম আসামী ফিরোজ সিকদার ও মাসুদ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে নগরীর লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। এর পূর্বে গত ২০ জুলাই ওই মামলার হুকুমের আসামী সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত (১৬, ১৭, ১৮ নং ওয়ার্ড) নারী কাউন্সিলর ইসরাত আমান রুপাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে রুপা জামিনে রয়েছেন। এদিকে মামলার প্রধান আসামী তরিকুল ইসলাম রাজাকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
চলতি বছরের ৯ এপ্রিল নগরীর নবগ্রাম রোডের বাসীন্দা মান্না পাহাড়ীকে সাপের বাক্সে চট্রগ্রাম থেকে ইয়াবা বহনের প্রস্তাব দেয় সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ইসরাত আমান রুপা ও যুবলীগ কর্মী তরিকুল ইসলাম রাজা।
মাদক বহনের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় গত ১৯ জুলাই রাতে নবগ্রাম নিজ বাসার সামনে মান্না পাহাড়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যপুরী কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। ২০ জুলাই মান্নার স্ত্রী কাজল বেগম বাদী হয়ে নগরীর ২২নং ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক এলাকার বাসীন্দা ও যুবলীগ কর্মী তরিকুল ইসলাম রাজা, সরজিৎ চন্দ্র রায়, মোঃ ফিরোজ, মাসুদ মোল্লা, রফিকুল ইসলাম বাদশাকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাউন্সিলর রুপাকে হুকুমের আসামী করা হয়। মামলা দায়ের পর পরই কাউন্সিলর রুপাকে তার ব্রাউন কম্পাউন্ড বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মান্না পাহাড়ীকে গত কয়েক মাস ধরেই নানাভাবে হুমকী দিয়ে আসছিলো যুবলীগ নেতা রাজা ও তার লোকজন। এ নিয়ে থানায় মান্না পাহাড়ী সাধারন ডায়েরী করলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয় রাজা। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল থানায় রাজার বিরুদ্ধে একটি সাধারন ডায়েরী করেন মান্না পাহাড়ী। পরে রাজার পক্ষ হয়ে মুঠোফোনে গত ৯ এপ্রিল কাউন্সিলর ইসরাত আমান রুপা মান্নাকে হুমকী দেয়। এ ঘটনায় মান্নপাহাড়ী রুপার বিরুদ্ধেও একটি সাধারন ডায়েরী করেন। মুঠোফোনে রুপা সাপুড়ে মান্না পাহাড়ীকে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। বেঁচে থাকতে চাইলে রাজাকে ডিস্টাব না করার জন্য মান্নাকে মোবাইলে হুমকী দেন রুপা। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করে মান্না পাহাড়ীর উপার আরো ক্ষিপ্ত হয় কাউন্সিলর রুপা। মান্না পাহাড়ীর পরিবারের অভিযোগ রুপার নির্দেশেই রাজা ও তার লোকজন মিলে মান্না পাহাড়ীকে হত্যার চেষ্টা চালায়।
কোতয়ালী থানার ওসি আওলাদ হোসেন জানান, মামলার ৩ ও ৪ নম্বর আসামী ফিরোজ এবং মাসুদ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।