মানবেতর জীবন-যাপন করছে শেবাচিমের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ২১৫ কর্মচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দুর্নীতিবার কর্মকর্তাদের লালশার শিকার শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ২১৫ কর্মচারী ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছে। চাকুরীতে যোগদানের পরে কার্যক্রম স্থগিত করায় গত তিন মাসে বেতন-ভাতাদী না পাচ্ছেন না তারা। এমনকি এখনো চাকুরী নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন কাটাচ্ছে তারা। আর তাই চাকুরীর নিশ্চয়তা পেতে আন্দোলন কর্মসূচী পালন করছেন তারা। এর অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন এবং দায়িত্ব পালনের অনুমতি চেয়ে পরিচালকের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেছেন তারা।
জানাগেছে, গত বছরের (২০১৫) ১ থেকে ১২ ডিসেম্বর বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাপকম/প্রশা-১/এডি/১সি-১৩/২০১১/৭৯২ তারিখ ২৭/০৪/১৫ ইং ও স্বাপকম/প্রশা-১/এডি/১সি-১৩/২০১১/১৮৬৬ তারিখ ১২/১১/১৫ ইং স্বারক অনুযায়ী ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর বিভিন্ন পদে ২১৫ জন কর্মচারী যোগদান করেন। কিন্তু গত ১৮ জানুয়ারী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের পার-২ এর উপ সচিব স্বাক্ষরিত ৪৫.১৪৩.০২৭.০০.০০১.২০৫-৬০ নং স্বারকের আদেশে দুর্নীতির অভিযোগে যোগদানকৃত কর্মচারীদের কার্যক্রম ও বেতন-ভাতা না প্রদানের স্থগীতাদেশ প্রদান করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্মচারীরা গত ১৪ ফেব্রুয়ারী উচ্চাদালতের জাজট্রিজ সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হুসাইন ও জাজট্রিজ একেএম শহিদুল হক’র ব্রঞ্চে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রীট (রীট নম্বর ১৩৬৩) দাখিল করেন। একই দিন উচ্চাদালত ওই আদেশটি স্থগীতসহ কর্মচারীদের কাজে যোগদান ও বেতন-ভাতাদী প্রদানের নির্দেশ প্রদান করে।
আদালতের নির্দেশনা হাতে পেয়ে কর্মচারীরা গত ১৭ ফেব্রুয়ারী হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলামের নিকট কর্মস্থলে যোগদানের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু পরিচালক ওই আবেদনের কোন সাড়া দেন নি।
পরিচালক ডা. এস এম সিরাজুল ইসলাম জানান, কর্মচারীদের কার্যক্রমে স্থগীতাদেশ দিয়েছে মন্ত্রনালয়। উচ্চাদালতের নিদের্শ মোতাবেক মন্ত্রনালয় থেকে মতামত প্রেরণ করবে। তবে কর্মচারীদের দেয়া আবেদনটি মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হলেও সেকান থেকে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা আসে নি।
তিনি আরো বলেন, উচ্চাদালতের নির্দেশনা মোতাবেক কর্মচারীদের স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদান করার নির্দেশনা না দেয়ায় তারা আমাকে প্রতিদিনই বিরক্ত করছে। পাশাপাশি আমার কার্যলয়ের সামনে অবস্থান নিচ্ছে। এতে করে কার্যক্রম অনেকটা ব্যহতও হচ্ছে।
পরিচালক বলেন, এ হাসপাতালে দীর্ঘ দিন ধরে জনবল সংকট। যে কারনে সেবার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে না। কম সংখ্যক জনবল নিয়ে আমাকে প্রতিনিয়তই হিমসিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় জনবলের ব্যাপক প্রয়োজন।
অপরদিকে এখনো কাজে যোগদান করতে পারছে না স্থগিত হওয়া কর্মচারীরা। ফলে গত তিন মাস ধরে তারা বেতন-ভাতাও পাচ্ছে না। যার ফলে ২১৫ কর্মচারী ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিশেষ করে বরিশালের বাহির নিয়োগপ্রপ্তরা সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছে। যে জন্য উচ্চাদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজে যোগদান ও বেতন-ভাতার দাবীতে গতকাল রোববার থেকে আন্দোলনে নেমেছে স্থাগীত হওয়া কর্মচারীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল তারা পরিচালকের কার্যলয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। প্রায় দুই ঘন্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে তারা পরিচালকের নিকট স্বারক লিপি প্রদান করেন। কর্মচারীরা জানিয়েছেন, কাজে যোগদানের নিদেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
রীটের বাদী পক্ষের আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশনা দ্রুততার সাথে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়সহ সংশি¬ষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। দ্রুত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ প্রদানসহ বিবাদীদের ৩ সম্পাহের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু এখনো মন্ত্রনালয় এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নেয়া মানে আদালতের রায় আবমাননার সামিল বলা চলে।