মানবাধিকার সম্মেলনে অংশ গ্রহনকারীদের কাছ থেকে ১টি শর্টগান ও ২টি পিস্তল পুলিশের হাতে জব্দ

ইমতিয়াজ তুষার,কুয়াকাটা॥ বরিশাল বিভাগীয় মানবাধিকার সম্মেলনে কুয়াকাটায় অংশ নিতে এসে অস্ত্র প্রদর্শন ও গভীর রাতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটিয়ে আত্কং সৃষ্টি করেছে মানবাধিকার কর্মী পরিচয়দানকারী দুই ব্যক্তি। কুয়াকাটার লেম্বুচর-খাজুরা বনাঞ্চল সংলগ্ন সৈকতে শনিবার মধ্যরাতে প্রায় ঘন্টাব্যাপী পিস্তল ও সর্টগানের শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনায় গোটা এলাকার মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করেছে তারা। এসময় ওই এলাকার নারী-শিশুসহ মানুষজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে জঙ্গলে পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালায়। গভীর রাতে ঘন্টা ব্যাপি  গুলির বিরামহীন বিকট শব্দে বসতবাড়ির লোকজন ছাড়াও তিন কিলোমিটার দূরে কুয়াকাটায় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এদিকে ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ লোকজনের খবরে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশের এসআই সঞ্জয় মন্ডলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরে কুয়াকাটা পর্যটন মোটেলে অবস্থান করা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পরিচয়দানকারী ২০১ নং কক্ষে থাকা কামরুজ্জামান মিলন, নুরুদ্দিন ইমরান ও আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে রাত ১২টার দিকে একটি শর্টগান ও দু’টি পিস্তল উদ্ধার করে জব্দ করে পুলিশ। এসময় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার উপস্থিত ছিলেন। পরে গতকাল রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন কুয়াকাটা লেম্বুচরের ঘটনাস্থল থেকে দু’টি বিদেশি মদের বোতল ও বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহৃত ১৯ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করে পুলিশের কাছে দিয়েছে। কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুর রহমান রোববার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় আরও এক রাউন্ড ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার করে বলে জানা যায়।
কুয়াকাটা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,  বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলনে আসা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে থাকা অস্ত্র দিয়ে ফাকা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পর্যটন হলিডে হোমস’র কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে এরা অবস্থান করে। খাজুরা এলাকার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান বেপারী জানান, জামাত ঘরানার সমমনা কয়েকটি ইসলামী দলের হরতালের আগের রাতের এ ঘটনায় তারা বেশি আতঙ্কিত হয়েছেন। এছাড়া ইতোপুর্বে কুয়াকাটা যুবলীগ সভাপতিসহ কয়েক কাউন্সিলরকে উড়ো চিঠিতে বোমা ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এসব কারণে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে অন্যান্য আতংকিত স্থানীয় লোকজনও দাবি করেছেন। এছাড়া অনেকের মতে সুন্দরবন সংলগ্ন ফাতড়ার বনাঞ্চলসহ সাগর মোহনা এলাকায় বড় ধরনের কোন সন্ত্রাসী চক্র হানা দিতে পারে এমন শঙ্কাও জেলে জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। এদিকে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে রাতে মদ্যপায়ী অবস্থায় ৮টি মোটর সাইকেল যোগে সমুদ্র সৈকত এলাকায় শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়ে গোটা এলাকার মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলেছে। অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে বলেছেন, একজন সাধারণ মানুষ যদি তাদের বৈধ অস্ত্রে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়াতো তাকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে অস্ত্র জব্ধ করা হতো। সেখানে এদের ক্ষেত্রে উদাসীনতার রহস্য কী!
এ প্রসঙ্গে কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুর রহমান বলেন, তাদের লাইন্সেধারী অস্ত্র থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরীক্ষা করা হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার কুয়াকাটা পর্যটন হলিডে হোম্সে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে বলেন, দিনের বেলা আমাদের কর্মসূচিতে অংশ নেয়া কেউ এঘটনায় দায়ি থাকলে এর দায় তার ব্যক্তিগত। এর সাথে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কোন সম্পর্ক নেই।