মাদক ব্যবসায়ীদের নগর ত্যাগের নির্দেশ নতুন পুলিশ কমিশনারের

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি জেহাদ ঘোষণা করেছেন নব নিযুক্ত কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী। ঘোষণা অনুযায়ী তিনি যোগদান পরবর্তী সময়ে আটকও হয়েছে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক স¤্রাট। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে বান্দ রোডের কেডিসি বস্তির চিহ্নিত গাজা স¤্রাট মালেককে আটক করে খাঁচায় বন্দি করেছে মডেল থানা পুলিশ। সকালে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন শেখ এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মালেককে তার বাসা থেকে আটক করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগে ভাগেই মাদক দ্রব্য সরিয়ে রাখায় তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগ উঠেছে অভিযানের আগেই মালেককে মাদক দ্রব্য সরিয়ে রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন শেখ জানান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নবনিযুক্ত কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী বরিশালে মাদক বেচা-বিক্রি সম্পূর্ন ভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী গত বুধবার রাতে বান্দ রোডের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক স্মৃতি কলোনীর সকল মাদক ব্যবসায়ীদের মহানগরীর মধ্যে সকল প্রকার মাদক বেচা-কেনা বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় মাদক ব্যবসায়ীদের নগরী ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
সে অনুযায়ী কেডিসি’র অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ীরাই বুধবার রাত থেকে মাদকের বেচা-কেনা বন্ধ রাখে। কিন্তু পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাদক ব্যবসা শুরু করে কেডিসি রাজ্জাক স্মৃতি কলোনীর শিল্পকলা একাডেমির পেছনের বাসিন্দা গাঁজা স¤্রাট মালেক ওরফে গাঁজা মালেক। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঐ এলাকায় অভিযান চালায় কোতয়ালী পুলিশ। এসআই মহিউদ্দিন শেখ এর নেতৃত্বাধিক পুলিশের অভিযানিক দলটি মালেকের ঘরে তল্লাশি চালায়। কিছু না পেয়ে গাঁজা স¤্রাট মালেককে আটক করে নিয়ে আসা হয়। তবে তার কাছে প্যাকেটে মোড়ানো এক পুড়িয়া গাঁজা পাওয়া গেছে বলেও জানান এসআই মহিউদ্দিন।
এদিকে মট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, শৈবাল কান্তি চৌধুরী বিএমপিতে যোগদানের পরে মহানগরীকে মাদক মুক্ত রাখার ঘোষণা দেন। তার উপরে গাঁজা মালেকের ব্যবসার সাথে ওসি শাখাওয়াত হোসেন, এসআই মহিউদ্দিন শেখ ও সমিরন মন্ডল সহ অন্যান্যদের সম্পৃক্ততার বিষয় নিয়ে আজকের পরিবর্তনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এজন্য মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানার ক্ষমতাসীন ওসি শাখাওয়াত ও তার সহযোগী থানার পুলিশ কর্মকর্তারা নব নিযুক্ত কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরীকে খুশি করতেই হঠাৎ করে নগরীতে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ওসি শাখাওয়াতের নির্দেশে নগরীর সব থেকে বিশাল মাদকের হাট কেডিসি রাজ্জাক স্মৃতি কলোনীর ইয়াবা স¤্রাজ্ঞী লাভনী ও তাসলিকে নাটকীয় অভিযান চালিয়ে আটক করে। শুধু তাই নয় ঐ দুই ইয়াবা স¤্রাজ্ঞীর কাছে কোন মাদক দ্রব্য না পেলেও ওসির পরামর্শে তাদের দু’জনার সাথে এক কেজি গাঁজা ধরিয়ে দেয় এএসআই খোকন। একই দিন ঐ এলাকার অপর ইয়াবা ও গাঁজা স¤্রাজ্ঞী ফাতেমা ওরফে ফতুকে গাঁজা সহ আটক করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আটক করা হয়েছে কেডিসি মাদকের হাটের সব থেকে বড় গাঁজা স¤্রাট মালেককে। তবে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মালেকের ভাই খালেক ও একই এলাকার অপর মাদক স¤্রাজ্ঞী ফরিদা।
এদিকে নবনিযুক্ত কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণের পরে যে সব মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হচ্ছে তাদের কাছ থেকেই মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে তাদের সহযোগিতা করে আসছিলো ওসি শাখাওয়াত হোসেন, মহিউদ্দিন ও সমিরন মন্ডল সহ সাবেক কমিশনার সামসুদ্দিনের আশির্বাদপুষ্ট থানার ক্ষমতাসীন পুলিশ কর্মকর্তারা। কেডিসি এলাকার এক মাদক স¤্রাজ্ঞী জানায়, এখনো ইয়াবা ও গাঁজা স¤্রাজ্ঞী ফরিদার মাদক বিক্রির টাকায় কেনা পালংকে ঘুমান ওসি শাখাওয়াত। এমনকি মালেক গাঁজা বিক্রির টাকা দিয়ে মডেল থানায় পুলিশের অলস সময় পার করতে কিনে দেয় এলসিডি টিভি ও ডিভিডি। এছাড়াও অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন ওসি শাখাওয়াত ও থানার ক্ষমতাসীন অফিসাররা। ফলে আটক করা না হলেও মাদক ব্যবসায়ীদের করা হয়েছে নানা ভাবে সহযোগিতা। এমনকি বৃহস্পতিবার মাদক স¤্রাট মালেকের বাসায় অভিযান চালানোর আগে এসআই মহিউদ্দিনই তাকে মাদক দ্রব্য বাসা থেকে সরিয়ে রাখতে বলেছিলেন বলেও গুঞ্জন রটেছে। কিন্তু শৈবাল কান্তি চৌধুরী বিএমপিতে যোগনাদের পরে মাদক এবং ব্যবসায়ীদের প্রতি জেহাদ ঘোষণা করায় অনেকটা চিন্তায় পড়ে গেছেন শাখাওয়াত সহ অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা।
এদিকে বিএমপি’র নবনিযুক্ত কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী ফোনালাপাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে জানান, মাদক বিরোধী অভিযান আমাদের একটি রুটিন কাজ। আর তাই সে অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, মাদক মুক্ত করতে পারবো কিনা জানিনা। তবে এটা নিয়ন্ত্রনের জন্য সর্বপরিচেষ্টা চালিয়ে যাবো। এমনকি সম্প্রতি শুরু হওয়া মাদক বিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাব্যক্ত করেন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী।