মাদকসেবীদের জন্য শেবাচিমের রোগীরা পাচ্ছে না প্যাথেডিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্যাথেডিন পাচ্ছে না রোগীরা। সরকারী ভাবে সরবরাহকৃত প্যাথেডিন বিক্রি করা হচ্ছে বাইরের দোকান এবং নেশাগ্রস্তদের কাছে। দীর্ঘ বছর ধরে অপারেশন থিয়েটারে দায়িত্বে থাকা নার্স এবং কর্মচারীদের সহযোগিতকায় প্যাথেডিন বাইরে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এসব করে খুব অল্প সময় আঙুল ফুলে কলাগাছের ন্যায় হয়েছে অসাধু নার্স এবং কর্মচারীরা।
সূত্র মতে, প্যাথেডিন এবং মরফিন এর অপব্যবহার বন্ধে বেসরকারী ফার্মেসীতে এগুলো বেচা কেনা এবং মজুত রাখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এছাড়া রোগীদের প্রয়োজনে সরকারী হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে প্যাথেডিন ও মরফিন কোম্পানির কাছ থেকে সরবরাহ করে।
এদিকে বেশিরভাগ ওষুধের দোকানে প্যাথেডিন ও মরফিন বিক্রি বন্ধ থাকলেও বেশ কিছু দোকানে এখনো হরদম ভাবে বিক্রি হচ্ছে। আর দোকানগুলোতে এসব প্যাথেডিন ও মরফিন সরবরাহ করছে সরকারী হাসপাতাল থেকে। এমননি একাধিক অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিন পরিদর্শন কালে। বেরিয়ে এসেছে কতিপয় অসাধু নার্স ও কর্মচারীদের প্যাথেডিন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ।
তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানাগেছে, হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫/৪০ জন রোগীর রুটিন অপারেশন হচ্ছে। এছাড়া জরুরী ভাবে হচ্ছে প্রায় ১০/১৫ জনের। এসব রোগীদের অপারেশনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হচ্ছে প্যাথেডিন এবং মরফিন । তাই সরকারীভাবে সরবরাহ করা প্যাথেডিন মরফিন ওটিতে পৌছে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব প্যাথেডিন পরিমান মতো পাচ্ছে না রোগীরা। কোন কোন ক্ষেত্রে বাইরে থেকে রোগীর স্বজনদের প্যাথেডিন কিনে আনতে হচ্ছে।
অপারেশন থিয়েটারের বেশ কয়েটি সূত্র নিশ্চিত করেন, ওটির ইনচার্জের দায়িত্বে প্যাথেডিন ইনডেন করা হয়। ওটিতে দায়িত্বরত কতিপয় নার্স ইনচার্জ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্যাথেডিন এবং মরফিন ইনডেন করছে। বাকিগুলো বিক্রি করছে বেসরকারী ফার্মেসীতে। এ জন্য তাদের রয়েছে নিজস্ব দালাল চক্র। এছাড়া ওটিতে দীর্ঘ বছর ধরে দায়িত্বে থাকা চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারীরাও জড়িত রয়েছে প্যাথেডিন পাচারের সাথে। এসব কর্মচারীরা প্যাথেডিনের এম্পুল বিক্রি করছে নেশাগ্রস্তদের কাছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকায় এম্বুল ভেঙে সিরিঞ্জ ভরে প্যাথেডিন বিক্রি করছে। ওটিতে থাকা চিকিৎসকদের চোখে ধুলা দিয়ে দীর্ঘ বছরের পূরনো এবং সরকারী ওষুধ এবং মালামাল পাচার কাজে পারদর্শি খ্যাত কর্মচারী ইএনটি ওটির হিরন, সুলতান, গাইনী ওটির ভূইয়া, মোসলেম, মালেক, সার্জারী ওটির মোশারেফ, আব্দুল লতিফ ও গফুর সরাসরি ভাবে প্যাথেডিন পাচার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছেন। এরা কালাম ওরফে ঢাকাইয়া কালাম, সবুজ, রফিক ও লুৎফর সহ বেশ কয়েকজন দালালের মাধ্যমে প্যাথেডিনগুলো পাচার করছে বহিরাগত ফার্মেসীতে। এর মধ্যে ইএনটি ওটি’র হিরন হাসপাতালের সামনে হিরা মেডিকেল হলে প্যাথেডিন সরবরাহ দিচ্ছে ফার্মেসীর মালিক রফিক ও দালাল লুৎফর এর মাধ্যমে। এছাড়া অন্যান্যরা সরকারী প্যাথেডিন সরবরাহ দিচ্ছে রায় মেডিকেল হল, আতিক মেডিকেল হল ও রুনা মেডিকেল হল সহ বেশ কয়েটি ফার্মেসীতে। প্যাথেডিন বহনকারী দালালরা নাম প্রকাশ না করার সর্তে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা আরো জানিয়েছে, শুধু প্যাথেডিন নয় ওটির এই চক্রটি সরকারী ওষুধ এবং রোগীদের ক্রয়কৃত ওষুধ সহ বিভিন্ন মামলামাল আত্মসাত এবং চুরি করে তা বাইরের ফার্মেসীতে বিক্রি করছে। এর মধ্যে হিরনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছিলো বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর পরেও তারা ওয়ার্ড মাষ্টারদের উৎকোচের মাধ্যমে রেটেশনের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে ওটিতে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তবে ওয়ার্ড মাষ্টারদের দাবী পুরানো লোকদের ওটি থেকে সরিয়ে দিলে চিকিৎসকরা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পূনরায় তাদের ওটিতে নিয়ে নেয়। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোন অভিযোগ নেই বলে তাদের দাবী। এর পরেও বিষয়টি গুরুত্বতার সাথে খোঁজ নিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।