মহানগর সভাপতি শামীম-সম্পাদক মামুন জেলা সভাপতি বিপ্লব-সম্পাদক তসলিম দীর্ঘ ৯ বছর পর জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি ঘোষনা

রুবেল খান ॥ দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পরে পুনর্গঠিত হলো বরিশাল মহানগর ও জেলা (দক্ষিণ) যুবদলের কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের ১২টি সংগঠনিক জেলার সাথে বরিশালের এদুটি ইউনিটের কমিটিও ঘোষনা হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল মহানগরে আক্তারুজ্জামান শামীম সভাপতি, মাসুদ হাসান মামুন সাধারন সম্পাদক এবং মিজানুর রহমান পলাশ সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন। তাছাড়া জেলা দক্ষিনে পারভেজ আকন বিপ্লব সভাপতি, এইচএম তসলিম উদ্দিন সাধারন সম্পাদক এবং হাফিজ আহমেদ বাবলুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। এর পূর্বে গত ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে গঠন হয়েছিলো জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি। সাত সদস্য বৃশিষ্ট পৃথক এই কমিটিতে যুবদলের থেকে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে ছাত্রদল নেতারা। ঘোষনা হওয়া মহানগর এবং জেলায় কমিটির ১৪ জনের মধ্যে বেশিরভাগই ছাত্রদল থেকে সরাসরি যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। ফলে দীর্ঘ দিন থেকে পদের আশায় যুবদল করে আসা নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও বেজায় খুশি পদ পাওয়া নেতারা।
এদিকে নতুন ঘোষনা হওয়া বরিশাল মহানগর এবং জেলার কমিটিতে পদ পাওয়া বেশির ভাগ নেতাই বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ার ঘরানার রাজনীতে সম্পৃক্ত। এর বাইরে বিভাগের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন অনুসারীও রয়েছেন কয়েকজন। কিন্তু দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চান অনুসারী নেতাদের স্থান হয়নি সাত সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে। এর ফলে বিএনপির একাংশের মাঝে যুবদলের কমিটি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদ হতে প্রেরিত এক ই-মেইল বার্তায় জানানো হয়েছে বরিশাল মহানগর এবং দক্ষিণ জেলা সহ দেশের সাংগঠনিক ১২টি জেলায় যুবদলের আংশিক কমিটির অনুমোদন এবং ঘোষনা করা হয়েছে। বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নির্দেশে এই কমিটি গতকাল বৃহস্পতিবার এক যোগে ঘোষনা করা হয়েছে। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নতুন কমিটি ঘোষনার খবরে পদ পাওয়া নেতা এবং তাদের অনুসারীদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় দলের হাই কমান্ড থেকে প্রদত্ত দায়িত্ব সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে পালনের কথা জানিয়েছেন মহানগর ও জেলা যুবদলের নেতৃত্বে আসা নতুন নেতারা।
যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের বেশ কয়েকটি সূত্রে জানাগেছে, দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন কমিটির জন্য জোর দাবী জানানো হয়। এমনকি নতুন কমিটির জন্য বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন তাদের অনুসারী নেতাদের নিয়ে পাল্টাপাল্টি তালিকা জমা দেন। এ নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকেই কানাঘুষা চলে আসছিলো। সর্বশেষ গতকাল মহানগরে ৭ এবং জেলা (দক্ষিণ) এর ৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষনা হয়েছে। যে সাতটি পদের ঘোষনা হয়েছে তা হলো সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক।
এর মধ্যে বরিশাল মহানগর যুবদলের সভাপতি করা হয়েছে আক্তারুজ্জামান শামীম এবং সাধারন সম্পাদক হয়েছেন ছাত্রদল নেতা মাসুদ হাসান মামুন। সহ-সভাপতির দুটি পদ পেয়েছেন কামরুল হাসান রতন এবং মাকসুদুর রহমান মাসুদ। যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এর দুটি পদ পেয়েছেন মাজহারুল হাসান জাহান এবং শহিদুল হাসান আনিচ। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন মিজানুর রহমান পলাশ।
এর মধ্যে সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামীম ১৯৮৪ সাল থেকে ছাত্রদলের মাধ্যমে বিএনপি’র রাজনীতিতে সামিল হন। এর পর তিনি ১৯৮৯ সালে সরকারি বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের (বাকসু) সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদ লাভ করেন। এছাড়া ১৯৯৩ সালে বাকসু’র এজিএস নির্বাচিত হন। এর পর ১৯৯৬ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারন সম্পাদক পদ লাভ করেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার পরে ২০০৩ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, ২০০৮ সালে যুবদল বরিশাল মহানগর শাখার সাধারন সম্পাদক এবং সর্বশেষ ২০১০ সালে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজ কল্যান সম্পাদক এর পদ লাভ করেন।
এদিকে নগর যুবদলে সাধারন সম্পাদক পদ পাওয়া মাসুদ হাসান মামুন ছাত্রদলের রাজনীতি করে আসছিলেন। যুবদলের পদ পাওয়ার সাথে সাথে ছাত্র রাজনীতিকে বিদায় জানাতে হচ্ছে তাকে। ছাত্র রাজনীতিতে মাসুদ হাসান মামুনকে দীর্ঘ সময় এবং পারি দিতে হয়েছে। কমিটির সর্বোচ্চ পদে থেকেও সরকার বিরোধী হামলা-মামলা এবং জুলুম নির্যাতন হতে রক্ষা পাননি। সর্বশেষ সরকার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে কাটাতে হয়েছে অনেকটা সময়। ১৯৯০ সালের দিকে ছাত্র রাজনীতিতে নাম লেখানো মাসুদ হাসান মামুন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পর পর দু’বার জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন বরিশাল আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ল’কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত এজিএস। এছাড়া ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ছাত্রদল বরিশাল জেলা কমিটির আহ্বায়ক এর দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ হাসান মামুন। ছাত্র রাজনীতি থেকে যুবদলের রাজনীতিতে উত্তীর্ণ হওয়া মাসুদ হাসান মামুনকে দলের এক নেতার এক পদ নীতি বাস্তবায়ন করতে হলে বর্তমান কেন্দ্রীয় এবং জেলা ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ ছাড়তে হতে পরে।
এদিকে জেলা (দক্ষিণ) যুবদলে সাবেক ছাত্রদল নেতা এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লবকে সভাপতি এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতা এইচএম তসলিম উদ্দিনকে সাধারন সম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সহ-সভাপতির দু’টি পদে মামুন রেজা খান ও মো. সাজ্জাদ হোসেন খান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এর দুটি পদে মাওলা রাব্বী শামীম ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন ছাত্রদল নেতা হাফিজ আহমেদ বাবলু।
এদের মধ্যে সভাপতি পদ পাওয়া এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লব ১৯৮৮ সাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতিতে যুক্ত হন। ওই সময় তিনি বৃহত্তর কাউনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া ২০০০-০৩ সাল পর্যন্ত সরকারি বরিশাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি এবং আহ্বায়ক এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে ছাত্রদল জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সাধারন সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন। এর বাইরে ২০০২ সালে সরকারি বরিশাল কলেজের ভিপি, ২০০২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং বর্তমান মহানগর বিএনপি’র শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং আইন পেশায় যুক্ত হওয়া ছাড়াও রাজনীতির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লব।
এছাড়া যুবদলের সাধারন সম্পাদক পদ পাওয়া এইচএম তসলিম উদ্দিন ছিলেন একজন সক্রিয় ছাত্রদল নেতা। ছাত্ররাজনীতির শুরু হতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারন সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন। এর বাইরে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদকও ছিলেন এইচএম তসলিম উদ্দিন।
এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলার ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছেন।