মহানগর পুলিশের ঘুষ ফান্ড গঠন কমিশনার শৈবাল-ডিসি শোয়েব অপসারণ

রুবেল খান ॥ মহানগর পুলিশ ঘুষ কেলেংকারীতে জড়িত থাকার অভিযোগে কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী ও উপ-পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার) শোয়েব আহম্মেদকে অপসারণ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসদাচরণ, দুর্নীতি ও পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা একেএম কামরুল আহছান জানিয়েছেন।
কমিশনার শৈবাল কান্তির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পুলিশ সদর দফতরের লুৎফর রহমান মন্ডল। শৈবাল কান্তি চৌধুরীকে সদর দপ্তরে প্রশিক্ষন বিভাগে রাখা হয়েছে। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে শৈবাল কান্তির পুলিশ কমিশনার পদ থেকে বিদায়টাকে শাস্তিমূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মহানগর পুলিশের পদোন্নতি পাওয়াদের পদায়নের জন্য জনবলের কোঠা বাড়ানো অনুমতির জন্য “ঘুষের তহবিল” সংগ্রহের অভিযোগে জুলাই মাসের শুরুতে উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জিল্লুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও ঘুষ তহবিল সংগ্রহের জন্য কমিটি গঠন করায় জুন মাসের শেষের দিকে ১০ পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
তারা হলো-সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. আনিসুজ্জমান, মো. মনির হোসেন ও আবু হানিফ, নায়েক কবির হোসেন, কনস্টেবল শহীদুল ইসলাম, বাবুল হালদার, আব্বাস উদ্দিন, আরিফুর রহমান, তাপস কুমার মন্ডল ও দোলন বড়াল। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
একইভাবে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন শৈবাল কান্তি চৌধুরী ও সোয়েব আহম্মেদ। রাজধানী থেকে প্রকাশিত একটি ইংরেজী দৈনিক এ আভাস দিয়েছে। ওই পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে এ দুজনের অপসারণের প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী ওই প্রস্তাবনায় গত পরশু স্বাক্ষর করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা এএসএম এমদাদুল দস্তগীর এ সব সূত্রের কথা স্বীকার করে নিশ্চিত করেছেন যে তারা এমন প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। অনুমোদনের কপি হাতে পাওয়া মাত্র অপসারন বিষয়ক সার্কুলার জারী করা হবে।
নগরীর ইতিহাসে প্রথম হিসেবে শৈবাল কান্তি পুলিশ কমিশনার হিসেবে ঘুষ ফান্ড তৈরি, জুয়া-যাত্রা, নগ্ন নৃত্য উস্কে দিয়ে লাভবান হবার অভিযোগ সবার মুখে মুখে ছিল। সব সভ্যতা পায়ে দলে ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হাউজি জুয়া ঘরে ঘরে পাঠিয়েছিলেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গত নভেম্বরে মহানগর পুলিশের ৮০০ সদস্য পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ায় পদোন্নতি তালিকায় নাম উঠে ৩৩২ সদস্যের। এর মধ্যে কনষ্টেবল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ২৩০ সদস্য উত্তীর্ন হয়। কিন্তু মহানগর পুলিশ পূনার্ঙ্গ না হওয়ায় তাদের পদায়নের জন্য পদ শুন্য হয়নি। তাই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে পদোন্নতির তালিকায় নাম থাকলেও ২৩০ সদস্য কনষ্টেবল পদে থাকতে বাধ্য হয়।
তাই মহানগর পুলিশের জনবল বাড়ানোর সদর দপ্তরে চাপা পড়ে থাকা প্রস্তাবনা ফাইল মন্ত্রনালয়ে পাঠানো ও তা অনুমোদনের জন্য ঘুষ দেয়ার তহবিল গঠন করা হয়। বরখাস্ত হওয়া ১০ সদস্য নিয়ে গঠিত কমিটি এএসআই থেকে এসআই, নায়েক থেকে এএসআই এবং কনস্টেবল থেকে নায়েক পদে পদোন্নতির জন্য উত্তীর্ন হওয়া ২৩০ সদস্যের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়। এতে অবৈধভাবে গঠিত তহবিলে মোট ৭৭ লাখ টাকা জমা হয়।
পরে ওই টাকা ডাচ বাংলা ব্যাংকে এএসআই আনিসুজ্জামান, নায়েক কবির হোসেন ও কনস্টেবল বাবুল হালদারের নামে হিসেব নম্বরে তা জমা করা হয়।