মহানগর ছাত্রলীগের মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটির বিরুদ্ধে রাজপথে তৃণমূল ও ত্যাগি নেতা-কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥  ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান টেন্ডারবাজ ও ভূমি দস্যু। সাংগঠনিক যোগ্যতা না থাকলেও পদবী ব্যবহার করে সন্ত্রাসী ও লুটপাট করে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুন্ন করছে। তাই ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করার দাবিতে নগরীতে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে তৃণমূল ছাত্রলীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর সদর রোডে মহানগর ছাত্রলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীর ব্যানারে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচীতে ছাত্রলীগ নেতা রইচ আহম্মেদ মান্না সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবী জানিয়েছে বক্তারা।
অশ্বিনী কুমার হলের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগ মহানগরের নেতা মো. মাঈনুল ইসলাম। এতে একাত্বতা প্রকাশ করে সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সাবেক জিএস ও ছাত্রলীগ নেতা শাহারিয়ার আহম্মেদ বাবু বলেন, এক সময় নগরীতে ছাত্রলীগের ব্যাপক সুনাম ছিল। এই নগরীর এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতারাই এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু জসিম উদ্দিন এবং অসীম দেওয়ান মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এসে সেই গৌরবময় ইতিহাসকে আজ বিলুপ্তির পথে নিয়ে গেছে। জসিম ও অসীমের নেতৃত্ব অসাংগঠনিক হলেও পদবী ব্যবহার করে টেন্ডারবাজী, জমি দখল, চাঁদাবাজী, মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা সহ সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে তারা।
ছাত্রলীগের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জসিম উদ্দিন এবং অসীম দেওয়ান শুধু নেতৃত্বেরই অযোগ্য নয়, তারা শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও নি¤œ শ্রেণির। তাদের সার্টিফিকেট নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্জাক বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া যায় না। তাই মহানগর ছাত্রলীগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে তাদের পদত্যাগের দাবীও জানান তিনি।
মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ও কর্মসূচির সভাপতি মাঈনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের মহানগর কমিটির বয়স প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারেনি টেন্ডারবাজ ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম এবং অসীম দেওয়ান। তারা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতে বার বার অদক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। উল্টো নিজেদের অপকর্ম ও অযোগ্যতা আড়াল করতে সাধারণ নেতা-কর্মীদের উপর দোষ চাপাচ্ছে।
সম্প্রতি মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ানের বাসায় নাটকীয় হামলা-ভাংচুরের মামলার সমালোচনা করে ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, অসীম দেওয়ান একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজ এবং ভূমিদস্যু। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যে কারণে জনতার রোষানল থেকে রক্ষা পেতে দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থেকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় ছিল। হঠাৎ করেই অসীম আত্মগোপন থেকে ফিরে এসে আলোচনায় উঠে আসতে কৌশল হিসেবে নিজ বাড়িতে নাটকীয় হামলার ঘটনা ঘটায়। শুধু তাই নয়, ওই নাটকীয় ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা রইচ আহম্মেদ মান্না, তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন বিশ্বাস, সরকারী বরিশাল কলেজের সাংগঠনিক সম্পাদক কিসমত শাহরিয়ার হৃদয়, আরিফুর রহমান শাকিল, সোহাগ, নাদিম, হেন্ডি, সম্পদ, যুবলীগ নেতা কাজী জিয়াউর রহমান সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগে মামলা ঠুকে দিয়েছে। অসীমের এমন কর্মকান্ডে গোটা আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ সংগঠনের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। এজন্য মহানগর ছাত্রলীগের জসিম উদ্দিনকে সভাপতি এবং অসীম দেওয়ানকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষিত মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার এবং ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানানো হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে একাত্বতা প্রকাশ করে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাহিন সিকদার বলেন, টেন্ডারবাজ ছাত্রলীগ নেতা জসিম এবং অসীমের হাতে আওয়ামীলীগের নেতারাও লাঞ্ছিত হয়েছে। যা ইতোপূর্বে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তারপরেও এরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। তিনি ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ এই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটির দাবী জানান।
৩০ টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হেমায়েত উদ্দিন বাদশা বলেন, অসীম দেওয়ানের মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তারাই ছাত্রলীগের মূল কর্মী। বিগত আমলে রইচ আহম্মেদ মান্না সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা ছাত্রলীগের রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু উড়ে এসে জুড়ে বসা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম ও সম্পাদক অসীম সেই সময়ের ত্যাগী নেতাদের সাইজ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এজন্য সুবিধা ভোগী এই নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীর পাশাপাশি মহানগর কমিটি বিলুপ্তর পর নতুন কমিটি গঠনের দাবী তোলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এই নেতা।
প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে অন্যান্যদের মাঝে একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, বরিশাল ল’ কলেজের সাবেক ভিপি এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বরিশাল জেলার আহ্বায়ক হাসান মাহমুদ বাবু, বরিশাল সংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বরিশাল মহানগরের সভাপতি শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্না, বরিশাল সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ শাহীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম, ছাত্রলীগের জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান বাপ্পি, মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলম মিরাজ, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বিএম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আতিকুল্লাহ মুনিম, কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ পার্লামেন্ট, বয়েজ অব বরিশাল, বাংলাদেশ ইয়াং স্টার সোসাইটি, তাঁতী লীগ জেলা ও মহানগর শাখা, বাস্তুহারা লীগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, বিএম কলেজ ছাত্রলীগ, সদর উপজেলা ছাত্রলীগ, বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগ, সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ছাত্রলীগ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগ, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারীং কলেজ ছাত্রলীগ, নগরীর ৩০ টি ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা, সহ¯্রাধিক নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং এলাকাবাসী। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বিশাল এক প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর রইচ আহম্মেদ মান্না সহ সকল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাদের দাবী জানিয়ে স্মারকলিপি দেয় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। উল্লেখ্য বরিশালের ইতিহাসে গতকালের মানববন্ধন ছিল স্মরণ কালের বৃহত্তম মানববন্ধন।