মহানগর ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বে কেন্দ্রের নেতারা উদ্বিগ্ন

রুবেল খান ॥ মহানগর ছাত্রলীগের কর্মকান্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় নেতারা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মহানগর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের লড়াইকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে এমন হতাশা দেখা দিয়েছে। যার ফলে মহানগর শাখা ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি নিয়ে দ্বিতীয় দফায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে হাল ছাড়েনি স্থানীয় নেতারা। মহানগরের পূর্নাঙ্গ কমিটির জন্য দুই পক্ষই বর্তমানে অবস্থান করছেন ঢাকায়। চালাচ্ছেন শেষ বারের মতো তদবির লবিং।
ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র জানায়, মহানগর ছাত্রলীগের তিন সদস্যের কমিটির মেয়াদ ইতিপূর্বে শেষ হয়েছে। তিন সদস্যে’র কমিটি গঠনের পরে তিন মাসের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটির গঠনের জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু সভাপতি জসিম উদ্দিন এবং সাধারন সম্পাদক অসীম দেওয়ান এর মধ্যে গ্রুপিং এর ফলে ওই সময় কমিটির তালিকাই চুড়ান্ত করতে পারেনি তারা।
এদিকে বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন এর মৃত্যুর পরপরই জসিম ও অসীম গ্রুপ ভেঙে এক হয়ে যায়। তবে সৃষ্টি হয় নতুন গ্রুপিং। এ গ্রুপিং এর এক দিকে নেতৃত্ব দেন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন এবং অপর দিকে তারই এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহচর মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাত।
অপরদিকে মহানগর ছাত্রলীগ কমিটির মেয়াদ শেষে সভাপতি ও সম্পাদক মিলে পূর্নাঙ্গ কমিটির জন্য একটি খসড়া তালিকা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদে পেশ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জসিম-তুষার গ্রুপিং এর জন্য কমিটি আটকে যায়। কেননা কেন্দ্রীয় সংসদের দাখিল করা কমিটির খসরা তালিকায় স্থান পায়নি মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাত সহ তার সমর্থকদের নাম। তাদের বাদ দিয়ে কমিটি অনুমোদনের জন্য গত জুলাই মাসে জসিম উদ্দিন এবং অসীম দেওয়ান পুরো মাস ব্যাপী তদবির লবিং চালালেও শেষ পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। অবশেষে শোকের মাস আগষ্ট এর অজুহাতে সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয় মহানগর ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন। ফলে এক মাস পরে ব্যর্থ হয়ে খালি হাতেই বরিশালে ফিরতে হয় জসিম ও অসীমকে।
এদিকে ঢাকায় ছাত্রলীগের ছাত্র সম্মেলন উপলক্ষে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক সিদ্দিকি নাজমুল আলম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারা বরিশাল সফর করেন। এ সময় নগর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের কর্মকান্ডের বিষয়গুলো নখদর্পনে চলে আসে তাদের। তার পরেও নিজেদের মধ্যে বিরোধ নিরসনে চলতি সেপ্টেম্বরে নগর ছাত্রলীগ নিয়ে দুই দিন ব্যাপী কাউন্সিল করার ঘোষনা দেন সিদ্দিকি নাজমুল আলম।
কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা বরিশাল ত্যাগ করার দু-তিনদিনের মাথায় নগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম ও তুষার গ্রুপ অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তাও স্বয়ং সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ এবং সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন এর বাসার সামনে। এসময় জসিম ও তুষার গ্রুপের নাহিদ সেরনিয়াবাত হামলার শিকার হয়। শেষে এ ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ফলে শংকা দেখা দিয়েছে নগর ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন এবং বর্তমান কমিটি রাখা না রাখার বিষয় নিয়ে। তবে কেন্দ্র থেকে আপাতত দ্বিতীয় দফায় মহানগর ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন স্থগিত করেছে বলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাছাড়া সেপ্টেম্বরে নগর ছাত্রলীগ নিয়ে যে কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিলো তাও অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় নেতারা মহানগর ছাত্রলীগের কর্মকান্ড নিয়ে কমিটির বিষয়টি নিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলেও হাল ছাড়ছে না নগর ছাত্রলীগের বিবাদমান গ্রুপ দুটি। সেপ্টেম্বরের মধ্যে বরিশালে সম্মেলন অনুষ্ঠিত করন এবং কমিটি গঠন নিয়ে দুই গ্রুপই সমান তালে তদবির লবিং চালিয়ে যাচ্ছে। সম্মেলন নিয়ে দুই পক্ষের নীতিগত সিদ্ধান্ত এক হলেও কমিটি নিয়ে চলছে শেষ বারের মতো ভিন্ন মাত্রার লবিং। কেন্দ্রীয় সূত্রটি জানায়, দুই পক্ষই ঢাকায় ছাত্র সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে অংশগ্রহন করে। পরে তাদের নেতা-কর্মীরা বরিশালে ফিরে আসলেও জসিম, অসীম ও তুষার, নাহীদ এখনো ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা পূর্বের  মতো করেই তদবির লবিং চালিয়ে যাচ্ছে। এক গ্রুপ তাদের নীতিতে অনড় থেকে তুষার-নাহিদকে বাদ দিয়ে পূর্নাঙ্গ কমিটি এবং অপরগ্রুপ ঐ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত অন্যথায় বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করার জন্য শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের একাধিক নেতা-কর্মীরা।