মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন ॥ জানেনা কেন্দ্রীয় নেতারা

রুবেল খান॥ নগর জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের গুজব। ঢাকায় কেন্দ্রিয় কাউন্সিল থেকে ফেরা মহানগর ছাত্রলীগের ভাড়া করা কাউন্সিলররা এমন গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে সর্বত্ত। এমনকি মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক গুজবের বিষয়ে মৌনতা প্রকাশ করলেও হতবাক কেন্দ্রীয় সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ। কেননা ছাত্রলীগের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠনের খবর গোটা নগরে ছড়িয়ে পড়লেও এ সম্পর্কে কিছুই জানা নেই কেন্দ্রের। তবে নগর ছাত্রলীগের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন প্রতারনার মাধ্যমে ফায়দা লুটতেই কিছু অছাত্র এবং বহিরাগতরা এমন কৌশল গ্রহণ করেছে।
সূত্রমতে, মাত্র কদিন পূর্বে ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল। কাউন্সিল উপলক্ষে দেশের অন্যান্য জেলা ও মহানগরের ন্যায় বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগে ২৫ জন কাউন্সিলর ঢাকা যান। তবে অন্যান্যদের থেকে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কাউন্সিলর নির্ধারনে অনেকটা ধার উদ্ধার করতে হয়েছে। এখানকার সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের সমর্থক অছাত্র, বিবাহিত এবং ছাত্রদল থেকে ভাড়া করে আনা নেতাদের কাউন্সিলর করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এরা সবাই ঢাকায় গিয়ে কাউন্সিলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, যে ইউনিটে কমিটি নেই সেই ইউনিটের কেউ ভোট দিতে পারবে না। তার পরেও বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কাছে ২৫ জনের তালিকা চাওয়া হয়। এখানকার কমিটিতে তিন সদস্য বাদে বাকি সবাই অবৈধ ছিলো।
কাউন্সিলের সময় প্রতিজন কাউন্সিলরের পরিচয় এর প্রয়োজন থাকে। যে কারনে দেশের অন্যান্য কাউন্সিলরদের ন্যায় বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগকেও একটি করে পদবি বিহীন পরিচয়পত্র দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাক্ষরিত পরিচপত্রে যার যার নামের পাশে সাংগঠনিক পদবি লিখে নেয়ার জন্য নির্দেশ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সেই পরিচয় পত্রকে কাজে লাগিয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষে যাওয়া ২৫ জনের মধ্যে ২১ জন নিজেরাই যে যার মত করে সহ-সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক ও সহ-সাধারন সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লিখে নেয়। তাদের লেখা সাংগঠনিক পদবি ব্যবহার করে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তবে কাউন্সিল শেষে এই পরিচয়পত্র বা পদবি মূল্যহীন বলেও জানিয়ে দেয়া হয়।
কিন্তু বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে এর সম্পূর্ণ ভিন্নটা। কাউন্সিলে পদবি লেখা যে পরিচয়পত্রটি দেয়া হয়েছে সেটাকে পুঁজি করেই চলছে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের বিতর্কিত এবং অছাত্রদের পদ-পদবী। ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের অনুসারী এসব অছাত্র এবং বিতর্কিত টেন্ডারবাজরা রীতিমত নিজেদের মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, সহ-সাধারন সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের ছবি সহ ভুয়া পদ পদবি। তাদের কারো কাছেই নেই কমিটি অনুমোদনের বৈধ কোন কাগজপত্র। এমনকি বিষয়টি নিয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকও।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানাগেছে, ২১ সদস্য বিশিষ্টি কমিটি গঠন নিয়ে যা দাবী করা হচ্ছে তার মধ্যে বেশিরভাগই অছাত্র, বিবাহিত, ছাত্রদল থেকে আসা এবং বিতকির্তদের নাম শোনা যাচ্ছে। যার মধ্যে সহ-সভাপতি বাবলু জমাদ্দার। হিসাব করলে তার বর্তমান বয়স কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সম্পাদককেও ছাপিয়ে যাবে। তার ওপর রয়েছে কথিত ছাত্রত্বের খেতাব। এর পাশাপাশি রয়েছেন সহ-সভাপতি দাবীদার চৌমাথা এলাকার বিতর্কিত টেন্ডারবাজ এবং নামধারী ছাত্র রেজভি ওরফে কাতলা রেজভি, যুগ্ম সম্পাদক দাবীদার কাউনিয়া এলাকার সক্রিয় জামায়াত নেতার ছেলে তানজিরুল, জালিয়াবাড়ির পুল এলাকার বাসিন্দা বিএনপি নেতা দোলন, তারেকের ভাই এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রাতুল। এরা সবাই নগর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক অসীম দেওয়ানের সমর্থক এবং এদের সবাইকে কাউন্সিলের জন্য ধার করে ছাত্রদল থেকে নিয়ে আসা হয়।
এছাড়াও যুগ্ম সাধারন সম্পাদক দাবীদার ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা এবং ছাত্রত্বহীন ছাত্রলীগের চিহ্নিত টেন্ডারবাজ বাপ্পি। ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক দাবীদার ২৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কানন। যার স্ত্রীর নাম রশ্নি আক্তার। তাকে নিয়ে বান্দ রোড সাগরদী আমতলার মোড় সংলগ্ন ডা. নূরুল ইসলাম চুন্নুর বাড়িতে ভাড়া থাকে কাননের স্ত্রী। ছাত্রলীগের গঠন তন্ত্র পরিপন্থি হলেও বিবাহিত কানন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দাবী করছেন। তার সাথে রয়েছে ভাটারখাল এলাকার প্রদীপ দাস। যিনি সবার কাছে লন্ড্রি প্রদীপ নামেই পরিচিত। শুধু মাত্র নগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন এর সমর্থক বিধায় এরা ছাত্রলীগের নাম বিক্রি করতে সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের। কাউন্সিলের পর থেকে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলেও নগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পক্ষে বা বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোন নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। তাদের গুঞ্জনের পক্ষেই মহানগর ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃবৃন্দের নিরবতা বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তবে এ বিষয়ে জানতে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল জানান, কমিটি গঠন হয়ে থাকলে আমার জানার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এরকম কোন সিদ্ধান্ত বা কমিটির বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। তবে কাউন্সিলে যে পরিচয়পত্রটি দেয়া হয়েছে তা শুধুমাত্র কাউন্সিল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এর বাইরে কোন মূল্য নেই।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নব নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, আমরা কেবল মাত্র দায়িত্ব পেয়েছি। এখন পর্যন্ত অফিসে বসার সুযোগ পাইনি। তবে জানামতে কাউন্সিলের ১৫ দিন পূর্বেও বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কোন কমিটি গঠন হয়নি। তার পরেও অফিসে বসে বিষয়টি ভালোভাবে খোজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এই নেতা।