মনপুরা ফিসারিজ রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন শুরু

হাওলাদার আমির, মনপুরা ॥ মনপুরায় অবস্থিত পর্যটকদের জন্য সবচাইতে আকর্ষনীয় স্থান মনপুরা ফিসারিজের জন্য নির্মিত রক্ষা বাঁধটি অবশেষে ভাঙতে শুরু করেছে। বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ঘের বের হয়ে গেছে। এছাড়া ঘেরের পাড়ে থাকা নানা প্রজাতির গাছ নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। এতে পর্যটকদের কাছে মনপুরার নয়নাভিরাম এবং দর্শনীয় এ স্থান হারিয়ে যাবে।
উপজেলার হাজীর হাট ইউনিয়নের চরযতিন গ্রামে ১৯৯১ সালে স্থানীয় বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী আলহাজ্ব শামস উদ্দিন বাচ্চু চৌধূরী প্রায় ২১০ একর জমির উপর মনপুরা ফিসারিজ লিমিটেড চালু করেন। দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটারের এই ফিসারিজ বর্তমানে হাজারো মানুষের মনের চাহিদা পুরনের একটি অবলম্বন হয়ে ধরা দিয়েছে। এই ঘেরের মধ্যেও রয়েছে প্রায় ২০/২৫ টি স্বতন্ত্র পুকুর। এছাড়া বেশ কয়েকটি লেক’তো রয়েছেই। পুকুর এবং লেকের মধ্যে প্রতি বছর হোয়াইট ফিস, বাগদা, গলদা, রুই, কাতলা, মৃগেল, কোরাল, মাগুর, কৈ, শিং, মাগুর, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, চাইনিজ ফুটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করা হয়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ এই ঘের থেকে ঢাকা, চাঁদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়। ঘেরের মধ্যে অবস্থিত পুকুর ও লেকের পাড়ে রয়েছে সাড়ি সাড়ি নারিকেল গাছ। পাশাপাশি রয়েছে আপেল ,কমলা, আঙুর, আম, কাঠাল, বাউকূলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষরাজিতো রয়েছেই। একটি পুকুরের মধ্যে রয়েছে স্পীড বোট। পর্যটকেরা এসে এই স্পীড বোটে চড়ে তারা আনন্দে মেতে উঠে। ঘেরের পাশে অবস্থিত কেওড়া বনে রয়েছে হরিনের বিচরন ক্ষেত্র। বিকেল বেলায় পর্যটকেরা হরিনের পাল দেখে আনন্দে উদ্দেলিত হয়। সব মিলিয়ে এই স্থানটি একটি আকর্ষনীয় স্থানে পরিনত হয়েছে।
ঘেরটির উত্তর পাশে অবস্থিত ঘেরাও বাঁধটির প্রায় ১০০ গজ অংশ মেঘনার ছোবলে ভেঙে গেছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে এই গুরুত্বপূর্ন স্থানটি যেকোন মুহুর্তে মেঘনার অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে।
মনপুরা ফিসারিজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলহাজ্ব শামস উদ্দিন বাচ্চু চৌধূরী বলেন, ” আমি অনেক কষ্ট করে এই ঘেরটি স্থাপন করেছি। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্থান হিসেবে মানুষের মুখে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটা ভাবতে আমার কি যে ভালো লাগে তা বোঝাতে পারবোনা। এটি ভেঙে গেলে আমার যেমন কষ্ট লাগবে তেমনি এটা হবে মনপুরার মানুষের জন্য অপুরনীয় ক্ষতি। তাই এটাকে রক্ষার জন্য সকল মহলসহ সরকারের সর্বাত্মক সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।”
যে স্থানটি একটি উপজেলার সবচেয়ে আকর্ষনীয় আর যে স্থান থেকে সরকার প্রতি বছর মোটা অংকের রাজস্ব পায় সে গুরুত্বপূর্ন স্থানটি আজ নদী গর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। রাক্ষুসে মেঘনার আগ্রাসী ছোবল থেকে এ গুরুত্বপূর্ন স্থানটিকে রক্ষার জন্য শীঘ্রই উদ্যোগ নেওয়া জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।