মনপুরায় ভূমিকম্পে ফাটল ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে ২২ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী

হাওলাদার আমির, মনপুরা ॥ ভূমিকম্পে মনপুরা উপজেলার সরকারী ডরমেটরী (ব্যাচেলর) দ্বিতল ভবনটিতেও বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একমাত্র ডরমেটরী ভবনটি বর্তমানে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। থাকার অন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২২জন কর্মকর্তা কর্মচারী আতংক ও উৎকন্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। ভবন ধসে যে কোন সময় ঘটতে পারে হতাহতের মত বড় ধরনের দুর্ঘটনা। দ্রুত ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে কর্মকর্তা কর্মচারীদের অন্যত্র থাকার ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন তারা।
সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার প্রানকেন্দ্র সরকারী বড় দিঘির উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত ডরমেটরী ভবন। ভবনের সামনের অংশে দেখা যায় ৩টি কলামে বড় বড় ফাটল। রুমের ভিতরের অংশেও দেখা যায় বিরাট ফাটল। দেওয়ালের পলেস্তারা খসে খসে পড়ে যাচ্ছে। জানালার পাশের কলামের কিছু অংশ ভেঙ্গে নিচে পড়ে আছে। ভবনের পিছনের অংশ কিছুটা দেবে গেছে। ভয়ে ও আতংকে কর্মচারীরা দিনাতিপাত করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। সে থেকে অদ্যাবদি পর্যন্ত ভবনটি ২/১ বার সংস্কার করা হলেও পুনঃনির্মান করা হয়নি। ভবনে থাকা উপ সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ হুমায়ুন কবির, মুকুল চন্দ্র দে, পরিসংখ্যান অফিসের জে.এস.এ মোঃ নিশাদুল ইসলাম, জুনিয়র অডিটর আবুল কালাম আজাদ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ভবন ফাটলের কথা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আমরা ভয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করে বরাদ্দকৃত রুম বাতিল করে অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেন তারা। উল্লেখ্য,
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী তৈয়বুল হামিদ চৌধুরী বলেন, আমি সরজমিনে ভবনটি পরিদর্শন করেছি। ভবনটি খুবই ঝুঁকিপুর্ন। ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা ও নতুন একটি ভবন নির্মানের জন্য উপজেলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ এরশাদ হোসেন খান বলেন,আমি ভবনটি ফাটলের কথা শুনেছি। উপজেলা প্রকৌশলীকে সরজমিনে পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন রির্পোট দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।