মনপুরায় জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ শিক্ষকের পর প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা

ভোলা অফিস॥ মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তথ্য গোপন ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে চার শিক্ষকের চাকুরী করার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানসহ ৩জন শিক্ষক একাডেমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই নিয়োগ পেয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য গোপন করে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সাইদুর রহমানকে এরবার বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেওয়ার পায়তারা শুরু করেছেভ।  শুধু তাই নয় সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত প্রধানসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ লুটপাটসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলে এসব তথ্য প্রকাশ পায়।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তর সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নি¤œ মাধ্যমিক  থেকে ২০০০ সালে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। এসময় বতর্মান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে ২৩ আগস্ট ২০০০ তারিখ সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগ পান (ইনডেক্স নং ৫১৪৬৬৮)। এ পদে নিয়োগের জন্য তার ¯œাতক শ্রেণি পাশ বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের পাঠানো তথ্যানুযায়ি, নিয়োগ পাওয়ার প্রায় ৮ মাস পর ( ২০০১ সালের ১৭ এপ্রিল) সাইদুর রহমানের ¯œাতক পাশের ফলাফল প্রকাশ হয়। চাকুরী বিধি অমান্য করে ২০০৩ সালের ২৫ এপ্রিল তাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সহকারি প্রধান শিক্ষক হতে চাকুরী বয়স ১২ বছর ও বিএড পাশ বাধ্যতামুলক থাকা সত্বেও নিয়োগে তা মানা হয়নি। সাইদুর রহমান সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার এক বছর পর ২০০৪ সালে বিএড পাশ করেন। এছাড়া  সাইদুর রহমান  দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণিতে পাশ করেছেন বলে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একইভাবে ধর্মীয় শিক্ষক জাকির হোসেন (ইনডেক্স নং ২৮৯৮৮০) ফাজিল পাশ করার আগেই নিয়োগ পেয়েছেন। সহকারি শিক্ষক পদে তিনি ১৯৯৬ সালের ৩০ এপ্রিল নিয়োগ পান। আর তিনি ফাজিল পাশ করেছেন প্রায় ৭ মাস পর ওই বছরের ২৬ নভেম্বর। সহকারি শিক্ষক হুমায়ন কবির (ইনডেক্স নং ৫১৮৬২৯) ডিগ্রি পাশ করার তিনমাস আগে নিয়োগ পেয়েছেন। বিদ্যালয় থেকে প্রেরিত সর্বশেষ শিক্ষক বিবরণীতে শিক্ষক অলি উল্যাহ (ইনডেক্স নং ১০১২০৯ ) এর নাম থাকলেও শিক্ষাবোর্ডের ওয়েব সাইটে দেওয়া তথ্যে তার নাম নেই। তবে অলি উল্যাহর এমপিও সিটে নাম রয়েছে।  সহকারি শিক্ষক নাজমা খানম (ইনডেক্স নং ১১০৪৭৭২) এর বেতর উত্তোলণ সিটে নাম থাকলেও শিক্ষক তথ্য বিতরণীতে তাকে দেখানো হয়নি। এরা সবাই পরস্পপর নিকটাত্মীয়। সভাপতি করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানকে।
এ ধরনের অসংখ্য অনিয়মের মধ্যে এখন গোপনে সাইদুর রহমানকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় এলাকার শিক্ষিত অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এসব অনিয়ম তুলে ধরে জনৈক আবদুর রহমান রাশেদ গত ৮ মে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপ-মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের মাধ্যমে শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করেন। উপ-মন্ত্রী অভিযোগটি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিলেও এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এবিষয়ে মনপুরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার টিপু সুলতানের কাছে জানতে চাইলে তিনি রহস্যজনক কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি কর্মস্থলের (মনপুরার) বাইরে আছেন উল্লেখ করে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। আর অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান জানান, ওই বিদ্যালয়টি তার বাবা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তখন তাদেরকে শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।