মনপুরায় অধিকাংশ স্লুইস গেইট অকেজো

হাওলাদার আমির, মনপুরা॥ মনপুরার পানি নিস্কাষনের জন্য নির্মিত ১২ টি স্লুইজ গেইটের মধ্যে ৮ টিই বর্তমানে বিকল হয়ে পড়ে আছে। আর ১টি স্লইজ গেইট নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বহু আগে। বিকল স্লইজ গেইটগুলো কোন ধরনের মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় বেড়ী বাঁধের অভ্যন্তরভাগে প্রায়ই সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চাষাবাদের সমস্যাসহ কৃষকের নানামূখী অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে তাদের।
চর্তুদিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা মনপুরা ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত । উপজেলার চর্তুদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত ৮০কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ। বেড়ীবাঁধের উপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন খালের উপর নির্মিত হয়েছে পানি নিস্কাসনের জন্য ১২ টি স্লুইসগেট। স্লুইসগেটগুলো হলো তালতলা স্লুইসগেট, সূর্যমুখী, জনতা বাজার, মাঝের ঘাট বেভাজিয়া, খাড়ির খাল, জংলার খাল, ফকিরের দোন, উত্তর চরফৈজ্জুদ্দিন ফকিরেরহাট, চরফৈজ্জুদ্দিন ভুঁইয়ার হাট দক্ষিন, দাসের হাট, হাজির হাট এবং বেতুয়া  পানি নিস্কাশনের স্লুইসগেট। এর মধ্যে জংলার খাল, ফকিরের দোন, তালতলা, সূর্যমুখী, মাঝের ঘাট বেভাজিয়া, বেতুয়া, হাজির হাট স্লুইসগেটগুলো অকেজো। দাসের হাট স্লুইসগেটটি মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে নদীর গর্ভে সম্পুর্ন বিলীন হয়ে গেছে।
পানিউন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পাউবো ৫৮/১, ২ ও ৩ পোল্ডারে অবস্থিত মোট ১২টি স্লুইসগেটের মধ্যে ৮টি প্রায় অকেজো হয়ে পড়ছে। এসব স্লুইস গেইট মেরামত করা না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ভাঙ্গা অকেজো স্লুইস গেইট দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও বর্ষাকালে একটানা কয়েকদিন বৃষ্টি হলেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মানুষের বসত বাড়ী, ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভবনাও থাকে। ফলে জলাবদ্ধতার কারনে অধিকাংশ জমিতে কৃষকেরা ধানের চারা রোপন করা সম্ভব হয় না। দ্রুত এসব পানি নিস্কাশনের স্লুইস গেইট পুনঃনির্মান করা না হলে বন্যা, জলোচ্ছাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ স্লুইস গেইটের দরজা(কপাট) ভাঙ্গা, কিছু কিছু স্লুইস গেইটের ২টা দরজার মধ্যে ১টা দরজা ভাল। আবার অনেকাংশে দেখা যায় দুটো দরজার সম্পুর্ন আটকানো। এগুলো কখনও উঠানো কিংবা নামানোর যায়না। এগুলোতে মরিচা ধরে আটকে রয়েছে। ভাঙ্গা কপাট দিয়ে সবসময় জোয়ারের পানি ভিতরে প্রবেশ করে ও ভাটা হলে নেমে যায়। স্লুইস গেইটগুলো রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ছে। তদারকির অভাবে এসব মূল্যবান সম্পদগুলো দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারনে এসব সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এব্যাপারে পানিউন্নয়ন বোর্ড উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম বলেন, আমরা অকেজো স্লুইস গেইটগুলো তালিকা করে পুনঃ নির্মানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য চিঠি দিয়েছি। এখনও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। আশা করছি শীঘ্রই এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিবে।