মনপুরার আটক ১১ জলদস্যূর মুক্তির দাবীতে হরতালের নাটক

হাওলাদার আমির, মনপুরা॥ মনপুরার ডালচর থেকে কোস্টগার্ড কর্তৃক আটককৃত ১১ জলদস্যূদের নামে ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে আসামীদেরকে আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এদিকে এসব জলদস্যূদেরকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য হাতিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে ৩ দিনের হরতাল কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আর এই হরতাল নাটকের রুপদানে সহায়তা করছেন হতিয়ার সরকার দলীয় এক প্রভাবশালীর একটি গ্রুপ। জলদস্যূদেরকে জেলে বানানোর এধরনের হীনচেষ্টায় হতবাক এবং বাকরুদ্ধ মনপুরা ও হাতিয়ার হাজারো জেলে।গত ২৫ সেপ্টেম্বর মনপুরার উত্তর পাশে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন ঢালচর থেকে লে. রাহাতুজ্জামানের নের্তৃতে ১১ জলদস্যূকে আটক করে হাতিয়া স্টেশনের কোস্টগার্ডের একটি দল। পরে জলদস্যুদের আস্তানা থেকে ১ টি ওয়ান শুটার বন্ধুক, বন্ধুকের ৫ রাউন্ড তাজা গুলি, ১০টি ঢাল, ৪টি রাম দা, ১ টি চাপাতি ও ২টি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়। এসময় জলদস্যূ কর্তৃক অপহৃত ৩ জেলে জহিরুল ইসলাম(১৮), কবির মাঝি(২৭) এবং আয়াত উল্যাহ’কেও(২১) উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ড কর্তৃক এই জলদস্যূদের আটকের পরপরই তাদেরকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য শুরু হয় প্রভাবশালীদের তদবির। ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রথম চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে অস্থির হয়ে পড়ে জলদস্যূদের অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রক হাতিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নের্তৃবৃন্দ এবং হাতিয়ার সরকার দলীয় প্রভাবশালী একটি গ্রুপ। উপায়ান্তর না পেয়ে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে ৩ দিনের হরতালের কর্মসূচী ঘোষনা করে। চলমান এই কর্মসূচীর ২দিন অতিবাহিত হলেও আরও ১দিন বাকি আছে। এই হরতালে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাতিয়ার কয়েক লক্ষ মানুষকে। এদিকে জলদস্যূদের বাঁচাতে হাতিয়ার সরকার দলের একাংশের ছত্রছায়ায় এধরনের কর্মসূচীতে হতবাক সাধারন মানুষ। পাশাপাশি হতভম্ভ ও বাকরুদ্ধ মনপুরা ও হাতিয়ার হাজার হাজার জেলে। হাতিয়ার সাধারন মানুষ বলছে, বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচীতে হাতিয়ায় তেমন প্রভাব না পড়লেও একটি সামান্য বিষয়কে বড় করে দাড় করিয়ে এধনের কর্মসূচী দেওয়া ঠিক হয়নি। ধৃত জলদস্যূরা নির্দোশ হলে তারা ছাড়া পাবে। সেভাবেই তদবির হওয়া উচিৎ। কেউ বলছেন, জলদস্যূ নির্মূলে গঠিত কোস্টগার্ড যদি জলদস্যূ দমনে সহযোগীতার বদলে অসহযোগীতা পায় তাহলে তারা তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যার্থ হবে। আর কোস্টগার্ড জলদস্যূ ধরলে যদি অনুসারীদের চোখে তারা জেলে হয়ে যায়, আর এর জন্য নানান কর্মসূচীতে সাধারন মানুষ ভোগে তাহলে এটা এদেশের জন্য দুঃখজনক। এদিকে মনপুরার সাধারন জেলেরা বলছেন, হাতিয়ার জলদসূদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। বছরের পর বছর ধরে আমরা ওদের কাছে জিম্মি। প্রতি মৌসুমে আমরা ঐ জলদস্যূদের কাছ থেকে টোকেন নিয়ে সংগ্রহ করে মাছ ধরতে হয়। এই টোকেনের দাম আট থেকে দশ হাজার টাকা। মাঝে মাঝে এই টাকার পরিমান আরও বেশীও হয়। এছাড়া আমাদের অনেককে অপহরন করে নিয়ে মোটা অকের টাকা মুক্তিপন আদায় করে। আমাদের পেশাই মাছ ধরা বিধায় আমরা জলদস্যূদের এহেন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হলেও তাদের সকল অপরাধ আমরা পালন করতে বাধ্য হই। আমরা বিপদে পড়লে কোস্টগার্ডের সাহায্য চাই। তারা জলদস্যূদের ধরে আমাদেরকে বিপদমূক্ত করতে সহায়তা করেন। এখন জলদস্যূদেরকে জেলে বানানোর জন্য  এক শ্রেনীর প্রভাবশালী চক্র যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে তাতে আমাদের বলার ভাষা নেই। আমরা অসহায়। এ পেশায় থাকতে পারবেন’না বলে অনেকে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কোস্টগার্ড, প্রশাসন এবং মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নের্তৃবৃন্দের সাথে আলোচনা চলছে। এব্যাপারে হাতিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মোঃ আক্তার হোসাইনের মোবাইল ফোনে(০১৭২১-২৬৮২৯১) যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।কোস্টগার্ডের হাতিয়া স্টেশন কমান্ডার লে. রাহাতুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।এব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ হানিফ সিকদার বলেন, কোস্টগার্ড ১১ জলদস্যূকে থানায় হস্তান্তর করে। পরে জলদস্যূদের বিরুদ্ধে ২টি মামলা দায়ের করা হয়। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি জানান।