মধু মাসের শুরুতেই বরিশালের বাজার রসালো ফলের দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মৌসুমী ফলে ছেয়ে গেছে বরিশালের হাট বাজার। এরইমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে আম, কাঁঠাল এবং লিচু সহ সবধরনের রসালো ফল। রসালো ফলের আমদানী সকলকে জানান দিয়ে যাচ্ছে আসছে মধু মাস জৈষ্ঠ।
বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ রবিবার পহেলা জ্যৈষ্ঠ। এই মাসটি মধুমাস হিসেবেই পরিচিত। কেননা জ্যৈষ্ঠ মাসে পাকা আম এবং কাঁঠালের ঘ্রান ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্ব। সেই সাথে লিচু, জাম্বুল সহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের আমদানী হয়ে থাকে। এই সময়টাতেই রসালো ফল বাজারে আসতে শুরু করে। চৈত্র এবং বৈশাখের খরতাপে রং ধরা ফল খাবার উপযোগি হয় রসাল মাস জ্যৈষ্ঠ মাসেই।
সরেজমিনে দেখাগেছে, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ফলের আড়ৎ নগরীর পোর্ট রোড এবং ফলপট্টিতে। ইতিমধ্যেই আড়ৎগুলো মৌসুমী ফলে ছেয়ে গেছে। প্রতিদিন ট্রাক এবং নৌপথে ট্রলারে আসছে হাজার হাজার মন আম, কাঁঠাল এবং লিচু। বিশেষ করে পোর্ট রোডের ফলের আড়ৎ আম এবং কাঁঠালের দখলে চলে গেছে। এখনে শুধু আমদানিই হচ্ছে না। এখান থেকে ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে রফতানি হচ্ছে এই রসালো মৌসুমী ফল।
তাছাড়া বরিশালের বাজারে গ্রাম গঞ্জের আম ছাড়াও যশোর এবং রাজশাহীর আমও আসতে শুরু করেছে। ল্যাংড়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির আম বাজার দখল করলেও ফজলি আম আমদানিতে মাস খানেক সময় লাগবে বলে দাবী ব্যবসায়ীদের। তাছাড়া আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যে জাতীয় ফল কাঁঠালের আমদানী কয়েক গুন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তারা। পাইকারী বাজার ছাড়াও রাস্তার পাশে ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে রসালো ফল লিচু। লাল টুকটুকে লিচু’র পাশাপাশি রং চটানো লিচু আঁটি বেধে বিক্রি করছেন ক্রেতারা। ক্রেতারাও খুঁজছেন গ্রাম অঞ্চলের লিচু। কোন প্রকার রং কিংবা ফরমালিন ছাড়া উৎপাদন হওয়া গ্রাম অঞ্চলের লিচু প্রতি ১শ পিস বিক্রি হচ্ছে ২শ থেকে আড়াইশ টাকায়।
এদিকে আম, কাঁঠাল এবং লিচুতে বাজার ছেয়ে গেলেও মূল্য এখনো অনেক বেশি বলে মনে করছেন ক্রেতারা। যে কারণে অনেক ক্রেতা মূল্য কমার আশায় আছেন। তাছাড়া রসালো ফলের বাজারে ফরমালিন আতংক ছড়িয়ে পড়েছে ক্রেতাদের মাঝে। তাই অনেক ক্রেতা বিদেশী ফল ক্রয় করতে অনাগ্রহী হচ্ছেন। তবে তাদের ঝোঁক দেশী এমনকি দক্ষিণাঞ্চলে ফলানো ফলের দিকেই।
নগরীর পোর্ট রোডের বেশ কয়েকজন ফলের আড়ৎদার জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আম, কাঁঠাল এবং লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। যে কারণে জ্যৈষ্ঠ শুরুর পূর্বেই এসব ফল বাজার দখল করেছে। অবশ্য প্রথম দিকে আমদানী হওয়া ফল নিয়ে একটু দুঃশ্চিন্তা ছিলো ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের মাঝে। কেননা অসময়ে যেসব মৌসুমি ফল আমদানি করা হতো তার সিংহ ভাগই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক ফরমালিনের মাধ্যমে পাকানো এবং রং ধরানো হতো। তবে বর্তমানে ভরা মৌসুম বিধায় এই আশংকা ক্রেতাদের মাঝ থেকে কিছুটা হলেও কমেছে। তার পরেও ফলের বাজারে প্রশাসনের নজরদারী বৃদ্ধির দাবীও জানান সাধারণ ক্রেতারা।