মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বাংলা নববর্ষ নির্বিঘেœ উদযাপনে মেট্রোপলিটান পুলিশের সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নিরাপদ ও নির্বিঘেœ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে মহানগরী এলাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলার আয়োজকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটান পুলিশ। গতকাল সোমবার সকাল ১১ টায় উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) এর কার্যালয়ে পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবারে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে হবে। মহানগরীতে তিনটি মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সাধারন মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গল শোভাযাত্রায় ভুভুজেলা বাঁশি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও ম্যাচ বা লাইটার বহন করা যাবে না, ধূমপান বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি শোভাযাত্রায় কেউ মুখোশ ব্যবহার করতে পারবে না। এদিকে সভায় আরো জানানো হয়, সাধারন মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে নগরীর মেলা এবং অনুষ্ঠান প্রাঙ্গনে প্রবেশ পথে আর্চওয়ে গেট রাখা হবে। এছাড়াও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হবে প্রত্যেক দর্শনার্থীকে। যাতে সকল অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এদিকে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যারা পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি যারা আইনশৃংঙ্খলার দ্বায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন তাদেরকে আইডি কার্ড এবং ব্যাজ পরিধান করতে হবে। এছাড়াও জুমার নামাজের আগে সব ধরনের গানবাজনা বন্ধ রাখতে হবে। সভায় আরো জানানো হয়, বর্ষবরন অনুষ্ঠানে চালক ব্যতীত অন্য কেউ মোটরসাইকেলে আরোহী বহন করতে পারবে না। এছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে বর্ষবরনের সকল অনুষ্ঠান বিকেল ৫ টার মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে। তবে বৈশাখী মেলা ও নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নানা সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান বিকেল থেকে শুরু হয়ে রাত ৯ টা কিংবা ১০ টা পর্যন্ত চলে। কিন্তু বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী বর্ষবরনের সকল অনুষ্ঠান বিকেল ৫ টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। তাই এই নির্দেশনা শীথিল করে রাত ৮ টা পর্যন্ত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বৈশাখী মেলা ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকবৃন্দ। সাধারন জনগণ যাতে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকলকে সজাগ ও সর্তক থাকতে হবে। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্য সাধারন জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিন। এসময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিজিএফআইয়ের বরিশাল প্রধান কর্ণেল শরীফ, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) গোলাম রউফ খান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) উত্তম কুমার পাল, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ) মো. হাবিবুর রহমান সহ এন এসআই, সিটিএসবি সহ বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এবং বৈশাখী মেলার আয়োজকবৃন্দ।