ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ফেরি চলাচল অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ

সাখাওয়াত শাকিল, ভোলা অফিস ॥ মেঘনার প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক ভেঙে অনির্দিস্টকালের জন্য ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার ভোররাতে ইলিশা ফেরি ঘাটের প্রায় ২০ মিটার সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এতে নদীর দুই পাড়ে আটকা পড়েছে শতাধিক বাস-ট্রাক। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির আঘাতে সম্প্রতি ইলিশা ফেরিঘাট এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এতে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে ভোলাÑলক্ষ্মীপুর সড়কের ইলিশা ফেরিঘাট এলাকার এক কিলোমিটার রাস্তা। এলাকাসীর আন্দোলণের মুখে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মহাসড়ক রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড শুক্রবার থেকে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করলেও বৈরী আবাওয়ার কারনে মেঘনা উত্তাল থাকায় ভাঙন কমেনি। এরই মধ্যে গতকাল সোমবার ভোররাতে ইলিশা ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কের শুরুতেই প্রায় ২০ মিটার ভেঙে গেলে ফেরিতে যানবাহন উঠা-নামা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পুরনো ফেরিঘাটের মসজিদ থেকে নতুন ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা।
এদিকে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় রাতে লক্ষ্মীপুর থেকে আসা যানবাহনগুলো ফেরি থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত নামানো যায়নি না। সরেজমিনে দেখা যায়, কনকচাঁপা নামের ফেরির মধ্যে যাত্রীসহ ১২টি বাস আটকে আছে। বাস-ট্রাকগুলো ফেরি থেকে আনলোড করতে না পারায় উত্তোল ঢেউয়ের মধ্যে ফেরিতেই অবস্থান করছে। এতে চরম ভোড়ান্তিতে পড়েছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানান। অন্যদিকে হঠাৎ ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটে আটকাপড়া পাঁচ শতাধিক যাত্রী পড়েছেন দূর্ভোগে। দমকা হাওয়ার আর অবিরাম বর্ষার কারণে যাত্রীরে ফেরি থেকে তীরেও নামতে পারছে না। ইলিশা ঘাটে নেমে গন্তব্যে যাবে এমন ব্যবস্থও নেই বলে জানান যাত্রীরা।
ভোলা সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহিন সরকার জানান, ভাঙন থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। তারপরও নদী ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষা করা যায় নি। ভেঙে যাওয়া রাস্তা সংস্কার এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিকল্প উপায়ে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই রুটে প্রতিদিন দুই শতাধিক বাস-ট্রাক চলাচল করতো। রাস্তা ভেঙে যাওয়া আজ থেকে এ রুটটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।