ভোলায় সিআইডির ভুয়া ‘এ্যাডিশনাল পুলিশ সুপার’ গ্রফতার

ভোলা অফিস ॥ ভোলার চরফ্যাশনে ভুয়া ‘সিআইডি এ্যাডিশনাল পুলিশ সুপার’ মো. হোসাইন রায়হান’কে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার সাথে ছিল স্ত্রী নাফিসা তাসনিন স্ম^রণ, কিশোরী শ্যালিকা ও শিশু শ্যালক। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারন মানুষের সাথে প্রতারণার অভিযোগে শুক্রবার বিকেল ৪টায় চরফ্যাশনের বেতুয়া লঞ্চঘাট থেকে পুলিশ এদের আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী রায়হান ওরফে শাহাজাদাকে গ্রেফাতার করা হয়।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলণ করেছেন ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। গ্রেফতারকৃত ইমাম শাহজাদা মিথ্যা পুলিশ কর্মকর্তা, র‌্যারের মেজর, ডেপুটি সেক্রেটারী পরিচয় দিয়ে প্রত্যারণা করে আসছে। সর্বশেষ ২৩ জুন এডিশনাল পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে একটি বিয়ে করে। তিনি বিভিন্ন সময়ে ইন্ডিয়ায় গিয়ে অবস্থান করেছে। আমাদের সন্দেহ তিনি আর্ন্তজাতিক মাদক পাচার বা অস্ত্রপাচারকারী চক্রের সদস্য হতে পারে। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার এসব অপকর্মের কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশ সুপার জানান। পুলিশ ছাড়া গ্রেফতারকৃত শাহাজাদার বিরুদ্ধে গতকাল রাত পর্যন্ত আর কেউ মামলা করেনি।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে ভোলার মনপুরায় আসেন ইমাম শাহজাদা ওরফে রায়হান। ২৩ জুন ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া বি.বাড়িয়ার স্মরণের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ে পরবর্তী হানিমুনের উদ্দেশ্যে স্ত্রী স্মরণ, নবম শ্রেণী পড়–য়া শ্যালিকা ও কিশোর শ্যালককে নিয়ে মনপুরায় আসেন তিনি। মনপুরায় এসে নিজেকে সিআইডি পুলিশের এ্যডিশনাল এসপি পরিচয় দিয়ে ডাকবাংলোতে উঠেন। মনপুরা পৌঁছে স্থানীয় গৌরাঙ্গের হোটেলে নাস্তা করতে গিয়ে নিজেকে সিআইডির এ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দেন ও টেবিলের উপর খোলস বন্দি পিস্তল রেখে নাস্তা সারেন। তার এমন আচরণে সাধারন মানুষের সন্দেহ হলে বিষয়টি স্থানীয়রা মনুপরা থানা জানায়। শাহজাদা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে মনপুরা ছেড়ে চরফ্যাশনে চলে আসেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল ৪টায় চরফ্যাশনের বেতুয়াঘাট থেকে পুলিশ তাকে আটক করেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহজাদা ওরফে রায়হান ভুয়া পরিচয় দেয়ার কথা স্বীকার করেন এবং তার ব্যবহৃত খেলনা পিস্তলটি মনপুরায় ও আইডি কার্ড মেঘানায় ফেলে দেয়ার কথা জানান। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় মনপুরা হাসপাতালের বাথরুম থেকে কাভারসহ খেলনা পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ্যাডিশনাল এসপির স্ত্রী নাফিসা তাসনিন স্বরণ পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কারুকার্যশিল্প বিভাগের ছাত্রী। গত ফেব্রুয়ারী মাসে ভারতের বেঙ্গালুরে ‘রায়হান’র সাথে পরিচয় এবং পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের পথধরে স্মরণকে নিয়ে বাংলাদেশের সিলেট, যশোর ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিসারে যান ‘রায়হান’। এসব এলাকায় নিজেকে ‘সিআইডি পুলিশের এ্যাডিশনাল এসপি রায়হান’ পরিচয় দিয়ে সরকারি সার্কিট হাউজ ব্যবহার ও পুলিশ প্রোটেকশনসহ নানান সুবিধা নিয়েছেন। এসব দেখে তার পেশাগত পরিচয় নিয়ে কোন সন্দেহের সুযোগ ছিল না বলে জানান স্মরণ। ফলে পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২৩ জুন তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ৪দিনের মাথায় এসে স্মরণের স্বপ্নভঙ্গের ঘটনা ঘটে। দুই বছর আগে লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের কিশোরগঞ্জ গ্রামের রোজিনাকে বিয়ে করেন ইমাম শাহজাদা। ওই স্ত্রীর ঘরে তার দেড় বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে বলে সে স্বীকার করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দিয়ে ২০১৩ সনে ঢাকার পল্টন থানা পুলিশের হাতে প্রথম গ্রেফতার হন তিনি। ওই ঘটনায় পল্টন থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে ‘সিআইডির এ্যাডিশনাল এসপি রায়হান’কে নিয়ে ধু¤্রজালে আছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে নিয়মিত আসা-যাওয়ায় ছিলেন তিনি। তার আয়ের উৎস ও বিভিন্ন দেশে দৌড়-ঝাঁপ থেকে পুলিশের ধারনা, আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের বড় কোন সিন্ডিকেটের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। দেশের অনেক ভিভিআইপি ও পুলিশের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার ফোন নম্বার পাওয়া গেছে তার মোবাইল সেটে।
এবিষয়ে ভোলার পুলিশ সুপার মোহাঃ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, গ্রেফতার ভুয়া এডিশনাল এসপিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সন্ধ্যার পর (শনিবার সন্ধ্যার পর) তার সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।