ভেদুরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল সদর উপজেলার পূর্ব ভেদুরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার আহত বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম শরিফ ওরফে জিহাদী’র (৬৫) এর মৃত্যু হয়েছে। হামরায় আহত হবার ১৫ দিন পর গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরন করেছেন। আজ নিহতের মরদেহের মরদেহের ময়না তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক।
এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে বৃদ্ধ’র মৃত্যু হয়েছে বলে তার ছেলে অভিযোগ করলেও ঘটনাটি রহস্যজনক বলে দাবী করছেন আসামীরা। এমনকি গতকাল বুধবার মৃত ব্যক্তির ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের চেষ্টা করে বলেও আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এর সাথে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদ কর্মীর যোগ সাজসের কথাও জানিয়েছেন ছেলে কামরুল ইসলাম।
চন্দ্র মোহন ইউনিয়নের পূর্ব ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও নিহতের বড় ছেলে কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, তাদের জমির ডোবায় মাছ ধরতে জাল পাতে পার্শ্ববর্তী বাদশা হাওলাদার এবং ছেলে বাদল হাওলাদার সহ অন্যান্যরা। পরবর্তীতে নুরুল ইসলাম শরীফ তার জমি থেকে জালটি সরিয়ে পাশে রাখে। নিয়ে নুরুল ইসলাম এবং বাদশা পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন এই ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষের বাদশা, ছেলে বাদল, স্ত্রী নাজমা, ভাই আল আমিন, হাসান, রাজিব, সজিব ও বাদলের শ্যালক জাকির মিলে নুরুল ইসলামের উপর হামলা চালায়। এসময় তাকে কুপিয়ে মাথায় রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এদিকে হামলার ঘটনার তিন দিন পর আহত নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে আসামীরা ক্ষমতাসিন এবং প্রচুর অবৈধ অর্থের মালিক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেনি বলে অভিযোগ করেন মৃত’র ছেলে।
অপরদিকে হামলায় আহত হবার পর ধিরে ধিরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে নুরুল ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার ৬দিন পর তাকে ভর্তি করা হয় শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে। কিন্তু ঐ বিভাগের চিকিৎসক রহস্যজনক কারনে পরিপুর্নভাবে সুস্থ হওয়ার আগেই হাসপাতাল থেকে নাম কেটে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
ছেলে কামরুল জানান, তার বাবাকে বাড়িতে এনে চিকিৎসকের পরমর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করান। কিন্তু হঠাৎ করে গত মঙ্গলবার রাতে তার শরীরে প্রচন্ড পরিমান জ্বর এবং মাথার ক্ষত স্থানে ব্যথা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বেলা ১১টার দিকে গুরুতর আসুস্থ হয়ে নিজ ঘরেই মারা যান তিনি। এজন্য ছেলের অভিযোগ হামলায় মাথায় আঘাতের কারনেই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে গ্রাম জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিমের মর্গে প্রেরন করেছেন। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে সাহেবেরহাট এলাকার কিছু কথিত সাংবাদ কর্মীদের সহায়তায় মৃত ব্যক্তির লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা চালায় আসামীরা।
জানতে চাইলে বন্দর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক ভাবে হত্যার কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তবে কিছুদিন পূর্বে নুরুল ইসলাম হামলায় আহত হয়েছিলো। সেই আঘাতের কারনেই তার মৃত্যু হয়েছেকিনা তা নিশ্চিত হয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।