ভূয়া হত্যা মামলার জালিয়াতকারীদের বিচার কাজ ৬বছর ধরে স্থগিত

ওয়াহিদ রাসেল॥ মুলাদিতে গৃহবধূকে আত্মগোপনে রেখে ভূয়া হত্যা মামলায় পুলিশ সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারকার্য শুরু হচ্ছে না। মামলার দীর্ঘ ৬বছর কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিচার স্থগিত রাখা হয়েছে। বিগত ২০০৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সোহেদা বেগম। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়, তৎকালীন মুলাদী থানার এসআই মোঃ আফতাব উদ্দিন খান, কালকিনি সাহেবরামপুরের মৃতঃ ফজলুল করিম হাওলাদারের পুত্র মোঃ সেলিম হাওলাদার, শামসু হাওলাদার, বাদীর পুত্রবধূ নাসিমা, মাদারিপুরের জয়নাল হাওলাদারের পুত্র বাবুল হাওলাদার, জাজিরা গ্রামের আনসার আলী সিকদারের পুত্র মোঃ শাহাব উদ্দিন, মুলাদি নাজিরপুরের মোতালেব চৌকিদারের পুত্র হানিফ দফাদার, আহাম্মেদ মোল্লার পুত্র জয়নাল চৌকিদার, মৃতঃ কাদের হাওলাদারের স্ত্রী তাহমিনা, ও সাহেবের চরের আব্দুল করিম হাওলাদারের পুত্র আলমগীর হাওলাদার। জেলা জজ থেকে মামলাটি পরিচালনা করে ২০১০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিচারকার্যের জন্য বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মামলার অভিযুক্তরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদনের মাধ্যমে মামলাটি অদ্যবধি স্থগিত রেখেছেন। মামলার বিবরন সূত্রে জানা যায়, বাদী সোহেদা বেগম মুলাদী মুন্সী গ্রামের মোঃ লুৎফর রহমানের স্ত্রী। ঘটনার ৬ বছর পূর্বে সোহেদা বেগমের পুত্র শামিম মুন্সির সাথে নাসিমার বিয়ে হয়। শামিম বিদেশ থাকায় সিমা বেপোরোয়া হয়ে ওঠে। সবার বাধা নিষেধ অমান্য করে বাহিরে থাকত এবং অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। এতে বাধা দেওয়ায় ২০০৮ সালের ২১ জানুয়ারি নাসিমা তার ভাইকে রাতের আধারে টাকা ও স্বার্ণালংকার নিয়ে স্বামীর বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাদীরা মামলা করতে চাইলে নাসিমা সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়। পরে ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি মুলাদী থানাধীন বানিমর্দন গ্রামের আড়িয়াল খা নদীর তীরে অজ্ঞাত এক মহিলার লাশ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে নাসিমার ভাই পুলিশ আফতাবের সাথে যোগসাজেশ করে জীবিত নাসিমাকে মৃত দেখিয়ে ঐ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি মুলাদী থানায় হত্যা মামলা করে। এতে সোহেদা সহ তার স্বামী ও পুত্রকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে পুলিশ আফতাব মামলার তদন্তভার গ্রহন করে। তদন্তের সময় সোহেদাকে আটক করে রিমান্ডে নিয়ে ৭০ হাজার টাকা আদায় করে এবং আরও ৫লাখ টাকা চাদা দাবী করে। আরও জানায় টাকা না দিলে তাদের কে অভিযুক্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। পরবর্তীতে ১০মে বরগুনার তৎকালিন চেয়ারম্যান গাজী শামসুল হক পাতাকাটা মৃধাবাড়ী থেকে নাসিমাকে উদ্ধার করে। এবং পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় মুলাদী থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ আফতাব প্রভাব খাটিয়ে মামলায় বাধা দেয়। পরে উল্লেখিত তারিখে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলা করা হয়।