ভান্ডারিয়ায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের অভিযোগ করায় স্ত্রী এবং ২ সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে বেলা ১২টার দিকে ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামে স্বামী মাহাবুব মল্লিক এবং তার সহযোগিরা স্ত্রীর উপর হামলা করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের ভাই শহীদুল ইসলাম।
নিহত দুই সন্তানের জননী এবং গৃহবধূ শাহানাজ বেগম (৪০) ধাওয়া গ্রামের মাহাবুব মল্লিকের স্ত্রী। এছাড়া পার্শ্ববর্তী কাঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম চেচরি গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল হাওলাদারের মেয়ে।
নিহতের ভাই শহীদুল ইসলাম জানান, গত দুই বছর পূর্বে ধাওয়া গ্রামের মৃত কাসেম মল্লিক’র ছেলে মাহাবুব এর সাথে তার বোনের বিয়ে হয়। দাম্পত্ত জীবনে তাদের একটি ছেলে এবং একটি কণ্যা সন্তান রয়েছে।
এদিকে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবীতে শাহানা বেগম’র উপর অমানষিক নির্যাতন করা হয়। এ কারনে বিভিন্ন সময় যৌতুক লোভি বোন জামাই মাহাবুবকে বিভিন্ন অংকে যৌতুক দেয়া হয়। এতে ক্ষ্যান্ত হয়নি সে।
অবশেষে গত ৬ মাস পূর্বে বিদেশ যাওয়ার বায়না ধরে মাহাবুব মল্লিক। এজন্য স্ত্রী শাহিনাকে বাবার বাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা এনে দিতে বলে। কিন্তু শাহানা তার স্বামীর যৌতুকের দাবী প্রত্যাখ্যান করে। এ জন্য প্রতিনিয়ত নির্যাতন সহ্য করতে হয় শাহানাকে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের পরামর্শ নিয়ে গত প্রায় ১৬ দিন পূর্বে ভান্ডারিয়া উপজেলায় ব্রাক’র আইন সহায়তা কেন্দ্রে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শাহানা। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয় স্বামী মাহাবুব।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে শাহানা অভিযোগের বিষয়ে ব্র্যাক সেন্টারে যান। খবর পেয়ে স্বামী মাহাবুব এবং তার দুই সহযোগী ব্র্যাক সেন্টারের সামনে থেকে শাহানাকে একটি অটোরিক্সায় করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্বামী মাহাবুব এবং তার সহযোগিরা শাহানাকে ভান্ডারিয়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে শাহানার ভাই শাহীদুল ইসলাম হাসপাতালে পৌছে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেল-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। দুপুর দেড়টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক গৃহবধূকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
এদিকে ভান্ডারিয়া থানার ওসি জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। তবে ঘাতক স্বামী ঘটনার পর আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।