ভাটিখানার শহিদ হত্যা মামলার রায় ৩ নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর ভাটিখানার শহিদুল ইসলাম সহিদ ওরফে ধলা সহিদ হত্যা মামলার ১৩ আসামীকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গতকাল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে মামলার যুক্তিতর্কের শুনানী শেষে বিচারক এসএম নাসিম রেজা তাদের জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। যাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন সদর উপজেলার চরকাউয়ার নয়আনি গ্রামের মৃত মোছলেম হাওলাদারের ছেলে সুলতান হাওলাদার, এফাজ উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, বেলায়েত আলী হাওলাদারের ছেলে বাচ্চু হাওলাদার, মোতাহার হাওলাদারের ছেলে জামাল হাওলাদার, আনসার মোল্লার ছেলে জাকির মোল্লা, কদম আলীর ছেলে আলাউদ্দিন, ইসমাইলের ছেলে সফিক, ওয়াজেদ সিকদারের ছেলে জালাল সিকদার, মোসলেম হাওলাদারের ছেলে আনোয়ার হাওলাদার, আলতাফ হাওলাদারের ছেলে হারুন হাওলাদার, মন্নান হাওলাদারের ছেলে হাফিজুল ইসলাম ও মোতাহার মৃধার ছেলে সেলিম মৃধা। আদালত সুত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের ২৮ নভেম্বর জমি বিরোধের জের ধরে সদর উপজেলা চরকাউয়া নয়আনি গ্রামের আতাহার হাজীর বাড়ীর সামনের রাস্তার উপর সহিদুল ইসলাম সহিদকে দুর্র্বৃত্তরা এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করে। এ সময় দুর্বৃত্তদের এলোপাথারি কোপে সহিদের মুখ মন্ডল বিকৃত ও পেট থেকে নারী ভূড়ি বেরিয়ে যায়। পরে সহিদকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় একই দিন নিহত সহিদুল ইসলাম সহিদের ভাই শেষ কবির মেধাবী ১০ জনকে এবং অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০০ সালের ২৩ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সুশান্ত রায় ৭ জনকে অভিযুক্ত ও ৩ জনকে অব্যহতি দিয়ে চার্জশীট জমা দেন। এছাড়া ওই চার্জশীট তিনি এজাহান বহির্ভূত আসামী হিসেবে দেলোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করেন। মামলার বাদী পুলিশের দেওয়া চার্জশীটের উপর না রাজির আবেদন করলে মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ২০০১ সালের ৯ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার রনজিৎ চন্দ্র সরকার ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট জমা দেয়। সিআইডি’র দেওয়া চার্জশীটের উপর বাদী না রাজি দিলে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত। সে সময় তৎকালিন ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মনির হাসান ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। গতকাল ওই মামলার যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক উপস্থিত ১৩ জনের জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য আগামী ৩ নভেম্বর সহিদুল ইসলাম সহিদ হত্যা মামলার রায় ঘোষনা করার কথা রয়েছে।