ভাটারখাল বস্তিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নগরীর ভাটারখাল বস্তিতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সম্প্রতি কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে চরমোনাইর ট্রলার থেকে চাঁদা উত্তোলন করে বাদশা ও তার বাহিনী। এ নিয়ে পত্রিকায়ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় বাস্তুহারা লীগ নেতা ও মৎসজীবী লীগের সহ-সভাপতি বাদশা চৌধুরী। সংবাদ প্রকাশের জন্য ভাটারখাল এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনকে দায়ি করেন তিনি।
এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে বাদশার সহযোগী মাদক ব্যবসায়ী মাসুম ও চেউয়া সোহেল প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে আলমগীরের মেয়ে জামাই সুমন ওরফে কৈতর সুমন ও সাদ্দাম হোসেনকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। এর প্রতিবাদ করে সুমন ও সাদ্দাম। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে বাদশা চৌধুরী এবং তার সহযোগী নগরীর ধানগবেষণা এলাকার ইয়াবা বিক্রেতা বরকত লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে সুমন ও সাদ্দামের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্র্কিত হামলা চালায়। এসময় তারাও পাল্টা হামলা চালালে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ হয়। তখন বাদশা এবং তার গাজা ব্যবসায়ী সহযোগিদের ধারালো রামদা’র কোপে আলমগীরের ছেলে রুবেল, মেয়ে জামাই সুমন, সাদ্দাম ও মেয়ে রুবী গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে। এসময় আলমগীরের সহযোগিরা ঘটনাস্থলে পৌছালে দুই গ্রুপের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে। এসময় বাদশার সহযোগী ইয়াবা ব্যবসায়ী বরকতকে কুপিয়ে জখম এবং বাদশার মা আমেনা বেগমকে মারধর করে।
খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন সহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এমনকি ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেন তারা। এছাড়া র‌্যাব সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাস্তুহারা লীগ নেতা বাদশা চৌধুরী বলেন, সকালে আমি এলাকার লোকজন নিয়ে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিলে যোগদান করি। মিছিল চলাকালে আমার শ্যালকের স্ত্রী চাঁদনী মোবাইলে কল দিয়ে জানায় সে নদীতে পানি আনতে গেলে আলমগীরের ছেলে রুবেল তাকে অকর্থ ভাষায় গালি দেয়। এসময় তার দুই বোন জামাই কইতর সুমন ও সাদ্দামও ছিলো।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে কোতয়ালী মডেল থানার ওসির কাছে অভিযোগ করি। তখন ওসি শাখাওয়াত হোসেন মোবাইল ফোনে রুবেলকে গালাগাল দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় রুবেল ও তার দুই বোন জামাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি ও আমার লোকজন ডিসি ঘাটে যাওয়া মাত্র সাথে থাকা বরকতকে কুপিয়ে জখম করে। বাধা দিতে গেলে আমার মা আমেনা বেগম, জথি বেগম, চাঁদনী, হাওয়া বেগম, ঝুমুর, পারভিন, মনি ও শিল্পিকে পিটিয়ে আহত করে বলে অভিযোগ বাদশার। এমনকি কোতয়ালী মডেল থানার এসআই আব্দুল কুদ্দুস’র সহযোগিতায় তাদের উপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদশা।