ভাটারখাল কলোনীতে অগ্নিকান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর ভাটারখাল এলাকায় ঈদগাঁহ সংলগ্ন কলোনীতে (বস্তিতে) অগ্নিকান্ডে ভস্মিভূত হয়েছে ৪ ঘর। গতকাল সোমবার বেলা ১২টার দিকে এই ঘটনায় আরো ৬ বসত ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আগুন নেভাতে গিয়ে এক যুবক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ভাটারখাল এলাকার হালিম সাহ’র ছেলে সাদ্দাম হোসেন।
এদিকে ঘটনার পর সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ’র আনসারদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি, চাল, চিড়া, গুড় ও মোমবাতি বিতরণ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জাফর বেপারী ওরফে জাপান’র স্ত্রী হাওয়া বেগম জানান, বেলা ১২ টার দিকে কলোনীর ইউনুস মিয়া নামের বাসিন্দার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তে মধ্যে আগুন আশপাশের বসত ঘর ও দোকান ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ইউনুস মিয়া, নুর ইসলাম ও জাফর বেপারী ওরফে জাপান সহ ৪ জনের ঘর আগুনে পুরোপুরি ভস্মিভূত হয়। এছাড়া আগুনে নিজাম, সেলিম হাওলাদার, হালিম সাহ’র ছেলে সাদ্দাম, কালাম, আবু এবং ওমর ফারুকের ঘর এবং বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে তাদের প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলাউদ্দিন বলেন, অগ্নিকান্ডের খবরে তাদের ৪ টি এবং ঝালকাঠির একটি মিলিয়ে মোট ৫টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি জানান, আগুনে দুটি ঘর সম্পূর্ণ ভাবে পুড়ে গেছে। এছাড়া আরো একটি ঘরের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর পাশাপাশি আরো ৪ টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া চুলোর আগুন থেকে অগ্নি কান্ডের সূত্রপাত বলে নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কলনীর বাসীন্দা রিনা বেগম জানান, ইউনুস মিয়ার টিনসেট ঘরের দ্বিতীয় তলা বানিজ্য মেলার লোকেদের কাছে ভাড়া দিয়েছে। তারা দ্বিতীয় তলায় চুলায় রান্না করে। দ্বিতীয় তলায় চুলায় রান্না বসিয়ে আগুন জ্বালিয়ে রেখে ভাড়াটিয়ারা নিচে নেমে যায়। এর কিছুক্ষন পরেই ঐ ঘরের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনের ধোয়া বের হতে দেখেন তারা।
এদিকে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল, জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম, বিসিসি’র প্যানেল মেয়র কে.এম শহীদুল্লাহ, সাবেক কাউন্সিলর আয়েশা তৌহিদা লূনা, এটিএম শহীদুল্লাহ কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সিটি মেয়র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ১৫ শাড়ি, ১৫ লুুঙ্গি বিতরন করেছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের পূণর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢেউটিন প্রদানের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
একই সময় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চিড়া, মিঠা, মোমবাতি ও দিয়াসলাই বিতরণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ’র কারখানার আনসাররা। কারখানা আনসার কমান্ডার সঞ্জিব সিংহ’র ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তাৎক্ষনিক ভাবে এসব খাদ্য ও জ্বালানি সমগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।