ব্যবহার অনুপযোগী নগরীর রাস্তা-ঘাট ॥ বিসিসি’র জরুরী সভা আহ্বান

রুবেল খান ॥ চার যুগের রেকর্ড ভাঙ্গের সর্বোচ্চ বর্ষণের ফলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে নগরীর প্রতিটি সড়ক। নগরের প্রাণ কেন্দ্র খ্যাত সদর রোড থেকে শুরু করে শাখা সড়কগুলোও পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে জরুরী সভাও ডেকেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় অতি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ঘাটের বিষয়ে আলোচনা করা হবে সভায়। নেয়া হবে জনগনের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্য মত, গত শনিবার রাতে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণের শেষ হয় রোববার বিকালে। আবহাওয়াবীদদের মতে ১৫ ঘন্টার ভারি বর্ষণ গত ৪৯ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গেছে। এ সময়ের মধ্যে বরিশাল নগরী সহ জেলায় সর্বোচ্চ ২৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। যা গত ৪৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এর পূর্বে ১৯৬৭ সালের ১০ নভেম্বর বরিশালে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিলো ২০৫ মিলিমিটার।
এদিকে দীর্ঘ চার যুগের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড সহ প্রায় প্রত্যেকটি সড়কেই হাটু সমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শনিবার রাত থেকে জমতে শুরু করা পানির স্তর বৃদ্ধি পায় রোববার দুপুরের মধ্যেই। রোববার রাতের মধ্যে সদর রোড সহ আশপাশের পানি নেমে গেলেও নদী সংলগ্ন নি¤œাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে শহরের জনপদে পানি জমায় রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাস্তাগুলোতে এক পা, দু’পা পর পরই বড় ধরনের গর্তে পরিণত হয়েছে। রাস্তার এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় সম্পূর্ণ রাস্তা খানাখন্দে পরিণত হয়ে যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমন চিত্র দেখা গেছে নগরীর সদর রোডের (জিলা স্কুলের মোড় থেকে জেল খানার মোড়) পর্যন্ত। ব্যস্ততম এই সড়কটিতে বর্তমানে যানবাহন চলাতে হলে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার গতিতে চালাতে হচ্ছে। দ্রুত গতিতে চালাতে গেলেই দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে যানবাহন। রাস্তায় জমে থাকা পাথরে গাড়ির চাকা পিছলে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করা গেছে।
শুধু সদর রোডই নয়, একই পরিণতি দেখা গেছে, জিলা স্কুল মোড় হতে বাংলাবাজার হয়ে আমতলার মোড়, পুলিশ লাইন মোড় থেকে বটতলা চৌ রাস্তা, লঞ্চ ঘাট চৌ রাস্তা থেকে কাকলির মোড়, শহরের অভ্যন্তরীণ চক বাজার সড়ক, বগুরা রোড, নবগ্রাম রোড, নতুন বাজার থেকে নথুল্লাবাদ, আমলতার মোড় থেকে রূপাতলী বাস টার্মিনাল, নাজিরের পুল হয়ে বেলতলা, ভাটিখানা সড়ক এবং গোরস্থান রোড, রাজা বাহাদুর সড়ক সহ অভ্যন্তরীণ প্রায় প্রত্যেকটি সড়কই ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ভাটার খাল থেকে আমলতার মোড় সড়কের তেমন ক্ষতি না হলেও মাঝে মধ্যে খানাখন্দের চিত্র দেখা গেছে।
যে সব রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে বেশ কিছু রাস্তা সাম্প্রতিক সময়ে সংস্কার করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জিলা স্কুল মোড় হতে বাংলা বাজার হয়ে আমলতার মোড় পর্যন্ত। যে কারণে এই সড়কটির কোন কোন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া জিলা স্কুল মোড় হতে জেল খানার মোড় পর্যন্ত রাস্তার সংস্কারে দরপত্র কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কিন্তু বর্ষার কারণে নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিসিসি’র প্রকৌশল বিভাগ।
এদিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান রোমেল জানান, বর্ষায় নগরীর সড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ভোগান্তি থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় এক জরুরী সভার ডাক দিয়েছেন মেয়র আহসান হাবিব কামাল। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনের সভা কক্ষে এই মতবিনিময় সভায় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট জনদের উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মেয়র। আজকের সভায় চার যুগের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমান, সংস্কারের বিষয়ে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।