ব্যবসায়ী জাফর হত্যাকান্ড হত্যার কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসহ আরো একজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর কাউনিয়া এলাকার ব্যবসায়ী আবু জাফর হত্যাকান্ডের ঘটনায় সঞ্জয় কর্মকার নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় ভাটিখানা এলাকায় তার ভাড়া বাসা থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত দুটি রামদা ও একটি ছোড়া উদ্ধার করে তারা। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম নগরীর লঞ্চঘাট থেকে তাকে আটক করে। আটককৃত সঞ্জয় কর্মকার (২৭) নগরীর ভাটিখানা এলাকার স্বপন কর্মকারের ছেলে। সঞ্চয় ঐ এলাকার মোহাম্মদ মিয়ার ঘরের ভাড়াটিয়া।
কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মাহাবুবর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে সঞ্জয় কর্মকারকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ভাটিখানা মোহাম্মদ মিয়ার ভাড়া বাসার পাশ থেকে হত্যারকাজে ব্যবহৃত দুটি রামদা এবং একটি ছোড়া উদ্ধার করেন তারা। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এসময় সঞ্জয় বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম’র কাছে হত্যাকান্ডের স্বীকারক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরবর্তীতে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পূর্বে গ্রেফতারকৃত এজাহার নামীয় আসামী চরবাড়িয়া এলাকার ইমরানের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্ধি এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সঞ্জয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত রয়েছে সকলের নাম পরিচয় পুলিশের কাছে ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে কারো নাম পরিচয় জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন সূত্রটি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর রাতে তালতলী বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফিরতে ছিলো বেকারী ও মুদী ব্যবসায়ী আবু জাফর (৪৫)। পথিমধ্যে নগরের পুল নামক স্থানে তার উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নাসির সহ সহযোগিরা। ঐ রাতেই গুরুতর অবস্থায় তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অবস্থার অবনতী ঘটায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন শেবাচিমের চিকিৎসকরা। কিন্তু ঢাকা নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় জাফরের।
এই ঘটনায় ১৮ অক্টোবর নিহতের ভাই গোলাম নবী জগলুল বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন হত্যাকান্ডের সহযোগী ইমরানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলে প্রেরণের পাশাপাশি পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।