ব্যবসায়ীদের রোষানলে পুলিশ জমির মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়তে হয়েছে পুলিশ ও জমির মালিকানা দাবীদারদের। গত বৃহস্পতিবার নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে দিনভর উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এজন্য শেষ পর্যন্ত জমি দখলমুক্ত করতে অভিযান চালাননি পুলিশ। জমির মালিকানা দাবীদার ইউসুফ আলী ঘরামী জানান, ২০০৭ সালে কামরুন্নাহার শিল্পী, কনা বেগম, শহীদুল ইসলাম, ইউসুফ আলী ঘরামী -লিয়াকত শাহ এর কাছ থেকে বাঘিয়া মৌজার ৪১০ ও ৪১১ দাগের ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই জমির পাশেই জেলা পরিষদের মালিকানা কাশিপুর চৌহতপুর মৌজার ১১৬১নং দাগে জমি রয়েছে। সেই সুবাদে দীর্ঘ বছর যাবত জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ঐ দাগের জমির পাশে ৪১০/৪১১ দাগের জমিও তাদের দাবী করেন। সেই সাথে ১১৬১ নং দাগের জমিতে ২৯টি স্টল হিসেবে লিজ প্রদান করেন। ইউসুফ ঘরামী আরো জানান, জমির সিমানা নিয়ে ইতোপূর্বে ৫ বার জরিপ হলে সেখানেও জেলা পরিষদের স্টলের জমির মালিকানা পাবে তারা। তার পরের জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে ২০১৩ সালে জমির চার মালিক বাদী হয়ে বরিশাল জেলা ১ম যুগ্ম জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারীতে মামলার বাদীদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। পাশাপাশি বিরধীয় জমি দখল মুক্ত করে দিতে বিএমপি পুলিশকে নির্দেশ করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতের নাজিরের উপস্থিতিতে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ জমির স্টল ভেঙ্গে দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালান। এ সময় উত্তেজিত হয়ে ওঠে সেখানকার ব্যবসায়ীরা। তাদের সাথে উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশকে বাধাগ্রস্ত করতে যোগ দেয় বিএম কলেজের অবৈধ কর্ম পরিষদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মঈন তুষারের ক্যাডার বাহিনী। এক পর্যায়ে রোষানলে পড়ে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা সাজেন থানার সংশ্লিষ্ট থানার ওসি। ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে অভিযান করা যাবে না বলে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ওসি। পরে অবশ্য ম্যাজিষ্ট্রেট সাথে নিয়ে উচ্ছেদ করার কথা থাকলেও বিকাল ৩টা পর্যন্ত তারা আসেননি। এদিকে বিরোধীও জমির ৯নং স্টল গুলবাগ হোটেল এন্ড বোডিং এর মালিক সোবাহান মিয়া জানান, গত ৫০ বছর যাবত তিনি সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জেলা পরিষদকে ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। এর মধ্যে কোন সময় কেউ জমির মালিকানা দাবী করে দখলের জন্য আসেনি। কিন্তু হঠাৎ করেই জমির অবৈধ মালিকানা দাবীদার কামরুন্নাহার শিল্পী, ঝর্না বেগম, ইউসুফ ঘরামী ও শহীদুল ইসলাম ১১৬১ দাগের জমি দখলের পায়তারা করেন। এই স্থানে ৮নং স্টল মালিকের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কাউনিয়া এলাকার আঃ ছালাম শামীম জাল জালিয়াতি করে জমির ভূয়া কাগজ তৈরি করেছে। পরে ওই ভূয়া দলিল দিয়ে মামলা দায়ের করেছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, উচ্ছেদ করতে হলে আগে নোটিশ দিয়ে জানানোর বিধান রয়েছে। কিন্তু কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে সকালে জমির ভূয়া মালিকদের পক্ষে পুলিশ বুল্ডোজার নিয়ে তাদের দোকান ভাংতে আসে। এ নিয়ে সুষ্ঠু সমাধানের পূর্বে তারা জমি দখল মুক্ত করবেন না বলে হুশিয়ারী দেন। সংশ্লিষ্ট থানার ওসি জানান, আদালতের নির্দেশে তারা উচ্ছেদ অভিযানে যান। কিন্তু আইন শৃংখলার অবনতী ঘটবে ভেবে তারা চলে যান। এ বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।