ব্যক্তি প্রচারণা নয়, দলের প্রচারণা করুন- মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিএনপি’র মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপনারা ব্যক্তি প্রচারণা করে দলের ক্ষতি করবেন না, দলের প্রচারণা করুন। সামনে নির্বাচন আসছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ অনেক চাল খাটাচ্ছে। তারা যে সংবিধান করেছেন, সে সংবিধান জনগনের স্বার্থে নয়। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির আয়োজনে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সহজে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেবেনা, সহায়ক সরকারের দাবীও মেনে নেবে না। জনগনকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। জনগনের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। ’

মির্জা ফকরুল বলেন, আমরা জনগনের কাছে যাচ্ছি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর মতো প্রহসনের নির্বাচন তারা চায় না। বর্তমান সরকার দেশে ভিন্ন আঙ্গিকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। আবার বাকশাল ফিরিয়ে আনতে চায়। দেশের কোন রাজনৈতিক দল একদলীয় নির্বাচন করার ক্ষেত্রে একমত নয়। প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। আপনি (আওয়ামী লীগ) একদলীয় নির্বাচন করবেন ? র‌্যাব পুলিশ দিয়ে ভোট দখল করে নির্বাচন করবেন ? তা আর এই দেশের জনগন মানবে না। ’

বরিশাল দক্ষিন জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন’র সভাতিত্বে অনুষ্ঠিত সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনীসভায় প্রধান অতিথি মহাসচিব বলেন‘বিএনপি গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে লড়াই করে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে লড়াই করে। আজ যখন আওয়ামী লীগ গনতন্ত্রকে ধ্বংস করছে, জগদ্দল পাথরের মতো বুকে চেপে বসেছে তখনও বিএনপি গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করে যাচ্ছে। আজ আমাদের দেশ নেত্রীর বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা দেয়া হয়েছে। তবু তিনি পিছু হটেননি। তিনি গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করে যাচ্ছেন। জনগনের অধিকার আদায়ে জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাবার প্রত্যয় নিয়েছেন। ’

নেতাকর্মিদের উদ্দেশ্যে বলেন, সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি। পুরোনো যারা আছেন তারা নবায়ন করবেন। প্রতিটি গ্রামে গিয়ে সদস্য সংগ্রহ করতে হবে এবং বিএনপিকে শক্তিশালী করতে।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বরিশাল। নেতৃত্বে প্রতিযোগীতা থাকবেই, তবে এমন কোন কাজ করবেন না যাতে দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে আপনাদেরই ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। আমাদের নিজেদের মধ্যে যাতে বিতর্ক সৃষ্টি না হয় সেকথা মাথায় রাখতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতিমূহুর্তে আমরা আমাদের তরুনদের হারাচ্ছি, জেলে যেতে হচ্ছে তাদের। আমরা কেন্দ্র থেকে বরিশালে এসেছি এ আন্দোলন সফল করতে, এ অভিযানকে সফল করতে। আগে রাজনীতি বুঝতে হবে। কেন আমরা রাজনীতি করি সেটার জ্ঞান নিতে হবে। তাছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে ভালবেসে দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার, বিএনপির কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিস জাহান শিরিন, কেন্দ্রিয় প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারেফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, জেলা দক্ষিন বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন, সাবেক ছাত্রনেতা হায়দার আলী খান লেলিন প্রমুখ। এসময় মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা রহমতউল্লাহ, সাবেক সংসদ আবুল হোসেন খাঁন, রওনুকুল ইসলাম মিঠু, সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু সরদার সহ স্থানীয় বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এর পূর্বে টাউন হল চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করার পাশাপাশি শান্তির প্রতিক পায়রা, বেলুন ও ফেষ্ঠুন উড়িয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করে নেতৃবৃন্দ।